নিজস্ব প্রতিবেদক
পিরোজপুরে প্রতারণার মাধ্যমে সংগৃহীত ১০১ কোটি টাকার বেশি অর্থ পাচারের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এ ঘটনায় পাচার চক্রের সাত ব্যক্তি ও দুটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে সংস্থাটি। বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
সিআইডির তদন্ত অনুযায়ী, এহসান মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড ও এহসান রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড বিল্ডার্স লিমিটেড ২০০৮ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত নিজেদের বৈধ আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচয় দিয়ে কার্যক্রম চালায়। এই সময়ে তারা উচ্চ মুনাফার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিনিয়োগের নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে।
তথ্য বলছে, প্রতিষ্ঠান দুটি পিরোজপুর, বরিশাল ও আশপাশের এলাকার সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী এবং প্রবাসীদের পরিবারের কাছ থেকে অর্থ নেয়। স্থানীয় সভা-সমাবেশ, এজেন্টের মাধ্যমে বাড়ি-বাড়ি গিয়ে এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে গিয়ে বিনিয়োগ সংগ্রহ করা হতো। এমনকি স্থানীয় মসজিদ, স্কুল ও মাদ্রাসা থেকেও অর্থ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
সিআইডির ভাষ্য অনুযায়ী, এই চক্রটি মোট ১০১ কোটি ৪৫ লাখ ৯৪ হাজার ২৩৮ টাকা সংগ্রহ করে। পরে সেই অর্থ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ কেনাসহ ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করে আত্মসাৎ করা হয়। তদন্তে অর্থ পাচার ও প্রতারণার একাধিক আলামত পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন খান জানান, প্রতিষ্ঠান দুটির পরিচালক রাগীব আহসান ও তাঁর স্ত্রী সালমা আহসান দীর্ঘদিন ধরে এই কার্যক্রম পরিচালনা করেন। তাঁদের সঙ্গে যোগসাজশে আবুল বাশার খান, খায়রুল ইসলাম, শামীম হাসান, মাহমুদুল হাসান ও মো. নাজমুল ইসলাম অর্থ সংগ্রহ ও স্থানান্তরের কাজে যুক্ত ছিলেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
অভিযুক্ত সাতজন হলেন—
রাগীব আহসান (৪০), আবুল বাশার খান (৩৫), খায়রুল ইসলাম (৩৫), শামীম হাসান (৩৭), মাহমুদুল হাসান (৩১), সালমা আহসান (৩২) ও মো. নাজমুল ইসলাম।
সিআইডি জানায়, প্রতারণার শিকার ভুক্তভোগীরা পিরোজপুর সদর থানাসহ বিভিন্ন থানায় প্রায় শতাধিক মামলা করেন। এসব মামলার মধ্যে প্রায় ১০০টি মামলা পর্যালোচনা করে প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় পিরোজপুর সদর থানায় মামলা রুজু করা হয়। দীর্ঘ তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। সিআইডির তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্তরা বর্তমানে বিচারাধীন অবস্থায় কারাগারে রয়েছেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই ঘটনায় সহস্রাধিক মানুষ আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাঁদের অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে বিনিয়োগের টাকা ফেরত না পেয়ে আইনি পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হন। সিআইডি জানিয়েছে, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলবে।