ইসলাম সবুজ │
রাজধানী ঢাকায় একদিনেই একাধিক স্থানে ককটেল সদৃশ বিস্ফোরণ ও প্রকাশ্য গুলির ঘটনায় নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে নগরবাসীর মধ্যে। মৎস্য উপদেষ্টার ব্যবসাহিক কার্যালয় সামনে , মিরপুরের গ্রামীণ ব্যাংক ভবন ও ধানমন্ডি এলাকার মতো ব্যস্ত স্থানে ধারাবাহিক এই বিস্ফোরণ নগরীর নিরাপত্তা কাঠামো নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
সোমবার (১০ নভেম্বর) দুপুর ৩টা ৩৫ মিনিটে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের স্যার সৈয়দ রোডে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের উপদেষ্টা ফরিদা আক্তারের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে দুটি ককটেলের বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। তবে এতে কেউ আহত বা হতাহত হয়নি। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষায়, হঠাৎ বিকট শব্দ হয়, মনে হলো কাছেই কিছু ভেঙে পড়ল। কয়েক সেকেন্ড পর ধোঁয়া আর ধাতব কণার ছিটে আশপাশে পড়তে দেখি।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, বিস্ফোরণটি পলিথিন বা ছোট প্যাকেট সদৃশ কোনো বস্তু, থেকে ঘটেছে। ডিএমপি সূত্র জানায়, ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে বিস্ফোরকের কিছু টুকরো ও মেটাল পিন জাতীয় উপাদান।
মিরপুর ১০ নম্বরে গ্রামীণ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে আরেকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। তথ্য বলছে, সেখানে তিনটি শব্দ শোনা যায় এবং ব্যাংকের নিরাপত্তাকর্মীরা ঘটনাস্থল থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখেন।
অন্যদিকে, ধানমন্ডি ২৭ নম্বর এলাকায় একই ধাঁচের বিস্ফোরণ ঘটে বলে এক প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়।
এক পথচারী বলেন, শব্দ হতেই দেখি তিন-চারজন দ্রুত দৌড়ে সরে যাচ্ছে। তারা জড়িত কি না বোঝা যায়নি।
একই দিনে সকালে ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পাশে প্রকাশ্যে গুলি চালানোর ঘটনায় একজন নিহত হন। কোতোয়ালি জোনের সহকারী কমিশনার ফজলুল হক জানান, অজ্ঞাত দুজন মোটরসাইকেল আরোহী টার্গেট করে গুলি চালায়। আহত ব্যক্তি হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যান।
সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, একজন ব্যক্তি দৌড়াতে দৌড়াতে পড়ে যাচ্ছেন, পেছন থেকে দুজন অস্ত্রধারী তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালাচ্ছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম বলেন, “এই ধরনের হামলা সাধারণত বার্তা পাঠানোর উদ্দেশ্যে করা হয়—নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা বোঝাতে। এটা পরিকল্পিত আতঙ্ক সৃষ্টির কৌশল।
আরেকজন নিরাপত্তা গবেষক ড. রুবিনা ফেরদৌস মত দেন, রাজধানীর সিসিটিভি কাভারেজে ঘাটতি অপরাধীদের সুযোগ দিচ্ছে। দ্রুত তদন্ত ও গ্রেপ্তার না হলে নাগরিক আস্থা আরও কমে যাবে।
বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট ঘটনাস্থল থেকে বিস্ফোরকের অবশিষ্টাংশ সংগ্রহ করেছে। ডিএমপি কর্মকর্তারা জানান, প্রাথমিকভাবে একাধিক এলাকা থেকে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও ফরেনসিক রিপোর্টের জন্য নমুনা পাঠানো হয়েছে।
র্যাব ও পুলিশের যৌথ টহল জোরদার করা হয়েছে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো সন্দেহভাজনকে শনাক্ত বা আটক করা যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর।
তথ্য বলছে, গত দুই মাসে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ছোট পরিসরে অন্তত ছয়টি বিস্ফোরণ ও তিনটি প্রকাশ্য গুলির ঘটনা ঘটেছে। সরকারি ও আধাসরকারি কার্যালয়ের সামনে এসব ঘটনা ঘটায় উদ্বেগ বাড়ছে।
প্রশ্ন উঠছে, আগস্ট-পরবর্তী সময় থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কেন এতটা ভঙ্গুর হয়ে পড়েছে?
রাজধানীর ব্যস্ত এলাকাগুলোতে এভাবে ধারাবাহিক ককটেল বিস্ফোরণ ও লক্ষ্যভেদী গুলি নগরবাসীর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আশঙ্কা তৈরি করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত সুনির্দিষ্ট তদন্ত, অপরাধীদের শনাক্তকরণ ও রাজধানীর নিরাপত্তা কাঠামো পুনর্গঠন এখন সময়ের দাবি।