নিজস্ব প্রতিবেদক
খুলনা বিএনপির দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা ও নেতৃত্বের ভিন্নমতের পর অবশেষে একই মঞ্চে একত্র হলেন তিন বর্ষীয়ান নেতা নজরুল ইসলাম মঞ্জু, রকিবুল ইসলাম (বকুল) ও আলী আসগর লবি। জনগণের অধিকার, ভোট এবং স্থানীয় উন্নয়ন ইস্যুকে সামনে রেখে ঐক্যবদ্ধ থাকার ঘোষণায় খুলনার তৃণমূল বিএনপি নেতা-কর্মীদের মধ্যে নতুন উচ্ছ্বাস সৃষ্টি হয়েছে।
নেতাদের ভাষ্য, জনগণের পাশে থাকার রাজনৈতিক অঙ্গীকারই আমাদের প্রধান লক্ষ্য, সেখানে ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ থাকা প্রয়োজন। এই বক্তব্য প্রকাশের পর খুলনার রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে বলেও স্থানীয় পর্যায়ের বিশ্লেষকেরা মনে করছেন।
খুলনা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য (২০০৯–২০১৪) নজরুল ইসলাম মঞ্জু দীর্ঘদিন মহানগর ও জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন সাংগঠনিক দায়িত্বে সক্রিয় ছিলেন। সাম্প্রতিক সময়ে তিনি স্থানীয় সমাবেশ, দলীয় বৈঠক এবং কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ বাড়িয়েছেন, যা তৃণমূলে দলের পুনর্জাগরণের ইঙ্গিত বহন করে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক সহসভাপতি এবং বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল মূলত ছাত্র–যুব রাজনীতির পরিচিত মুখ। বিভাগীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের কর্মসূচিতে তার ধারাবাহিক উপস্থিতি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত রাজনৈতিক বক্তব্য তাকে খুলনার তরুণ নেতা-কর্মীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।
অন্যদিকে, খুলনা-২ আসনের সাবেক সাংসদ ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সাবেক সভাপতি আলী আসগর লবি সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কারণে স্থানীয়ভাবে এখনও প্রভাবশালী। সাম্প্রতিক একাধিক কর্মসূচিতে তার অংশগ্রহণ নজর কেড়েছে।
তিন নেতার একত্র ঘোষণার পর খুলনা শহর, থানা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে বিএনপি নেতা–কর্মীদের অংশগ্রহণ দৃশ্যমানভাবে বেড়েছে। ওয়ার্ড কমিটির সভা, স্থানীয় মিটিং এবং ঘরোয়া রাজনৈতিক আয়োজনগুলোতে উপস্থিতি বাড়তে শুরু করেছে। স্থানীয় নেতা-কর্মীদের দাবি, “বহুদিন পর খুলনা বিএনপি আবার শক্তিশালী রূপে ফিরতে শুরু করেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করেন, ছাত্র–যুব–প্রবীণ তিন স্তরের নেতৃত্ব একই ধারায় কাজ করতে পারলে খুলনার বিএনপি দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক সংকট কাটিয়ে নতুন করে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে পারে। তারা আরও বলেন, টেকসই ঐক্য বজায় থাকলে সামনে নির্বাচনী প্রস্তুতি এবং জনসংযোগ কার্যক্রমে দলের গতিশীলতা বাড়বে।
তিন নেতার ঐক্যের ঘোষণা খুলনা বিএনপির রাজনীতিতে কার্যত নতুন অধ্যায় খুলে দিয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে এই ঐক্য কতটা স্থায়ী এবং কত দূর পর্যন্ত প্রভাব বিস্তার করতে পারে, তা এখন সময়ই বলে দেবে।