নিজস্ব প্রতিবেদক
খুলনা ওয়াসায় পদায়নকৃত নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) যোগদান করতে পারছেন না—এমন অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ৯ নভেম্বর রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক মুহম্মদ কামরুজ্জামানকে খুলনা ওয়াসার এমডি হিসেবে পদায়নের প্রজ্ঞাপন জারি করলেও ২ ডিসেম্বর পর্যন্ত তাঁর যোগদান প্রক্রিয়া আটকে আছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের ওয়াসা-সংক্রান্ত দপ্তরে ছাড়পত্র আটকে থাকার বিষয়টি একাধিক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন।
ওয়াসা–সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, নতুন এমডির যোগদান বিলম্বের সুযোগে প্রতিষ্ঠানটির ফেস–২ উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) পদে নিয়োগ নিয়ে দৌড়–ঝাঁপ শুরু হয়েছে। আলোচিত নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রেজাউল ইসলামের নামও সম্ভাব্য পিডি প্রস্তাবনায় রয়েছে বলে দাবি সূত্রগুলোর।
একাধিক কর্মকর্তা বলেন, রেজাউল ইসলামের বিরুদ্ধে অতীতের দুর্নীতি–সংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগ তদন্তাধীন থাকা সত্ত্বেও তাঁর নাম আগেই মনোনয়নের তালিকায় পাঠানো হয়েছিল।
২৫৯৮ কোটি টাকার ফেস–২ প্রকল্পের পিডি হতে পারলে “প্রভাবশালী মহলের স্বার্থ সুরক্ষিত হবে” বলে অভিযোগ কর্মকর্তাদের একটি অংশের। তাদের দাবি, তরুণ এক বোর্ড সদস্য, ওয়াসার কিছু দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও আরও কয়েকজন বোর্ড সদস্য মিলে পদের বিনিময়ে বড় অঙ্কের লেনদেনের চেষ্টা করছেন।
সূত্রের আরও অভিযোগ, পিডি হতে হলে ৪র্থ গ্রেডের কর্মকর্তা হতে হয়। কিন্তু মো. রেজাউল ইসলাম ৬ষ্ঠ গ্রেডের। তার ওপর ডিএমডি প্রকৌশলী মো. কামাল আহমেদ কর্তৃক মন্তব্যযুক্ত তাঁর বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদন (এসিআর) সম্প্রতি দপ্তর থেকে ‘গায়েব’ হয়ে গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। নতুন করে তাঁর পক্ষে এসিআর সংগ্রহের উদ্যোগ চলছে বলেও সূত্র দাবি করছে।
মন্ত্রণালয় বলছে—‘খোঁজ নেওয়া হচ্ছে’
স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্ম সচিব ড. মো. মনিরুজ্জামান বলেন, “খুলনা ওয়াসার নতুন এমডির যোগদান ফাইল এখন কী অবস্থায় আছে, তা এই মুহূর্তে নিশ্চিতভাবে বলতে পারছি না। বিষয়টি খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। গ্রাহক সেবায় যাতে বিঘ্ন না ঘটে, সেজন্য দ্রুত সমাধান জরুরি।”
৪ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া খুলনা ওয়াসার বোর্ড মিটিংয়ে পিডি নিয়োগের বিষয়টি উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন কর্মকর্তা।
ওয়াসা চেয়ারম্যান ও স্থানীয় সরকার বিভাগের (পরিকল্পনা) যুগ্ম সচিব ড. আবু নছর মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ বলেন, “নিয়োগ সংক্রান্ত কাজ মন্ত্রণালয় করে। চেয়ারম্যান হিসেবে প্রশাসনিক বিষয়ে আমার ভূমিকা সীমিত। পিডি নিয়োগ প্রসঙ্গে আমি কিছু জানি না।”