ইসলাম সবুজ
সবাই কিন্তু ইতিহাসে টিকে থাকে চরিত্র পদ নয়? দেশপ্রেমিক সিনিয়র সাংবাদিক রিপোর্টার্স ইউনিটির বারবার নির্বাচিত সভাপতি আবু সালেহ আকন এর রাজনৈতিক নেতা দেশ-প্রেমিক সুশীল সমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ফেসবুক সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে তিনি বলেন লোভ-লালসা ও স্বার্থের রাজনীতি পরিহার করে ওসমান হাদির মতো মানুষের কাতারে দাঁড়ানোর বার্তা
জুলাই বিপ্লবের পর দেশের সামগ্রিক সমাজব্যবস্থায় দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে। এই পরিবর্তনের সুফল থেকে কোনো একটি শ্রেণি বা পেশার মানুষই পুরোপুরি বঞ্চিত থাকেননি। সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে ফুটপাতের হকার—প্রায় সবাই কোনো না কোনোভাবে এই পরিবর্তনের সুবিধাভোগী হয়েছেন।
তবে এই বাস্তবতার মধ্যেই উঠে এসেছে একটি মৌলিক ও বিব্রতকর প্রশ্ন—আমরা কি সবাই এই পরিবর্তনের নৈতিক ও যোগ্য উত্তরাধিকারী হতে পেরেছি?
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি ও সিনিয়র সাংবাদিক আবু সালেহ আকন তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজে বর্তমান দেশের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে এমনই প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন। তিনি লিখেছেন, সমাজে এমন অনেক মানুষ আছেন, যাঁরা যোগ্যতার বিচারে কমলাপুর রেলস্টেশনের কুলি হওয়ারও উপযুক্ত নন, অথচ নানা সুযোগ, প্রভাব ও তদবিরের মাধ্যমে বড় বড় পদ-পদবি বাগিয়ে নিয়েছেন। পদ ও ক্ষমতার আরামে দিন কাটালেও তাঁরা ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছেন।
তিনি উল্লেখ করেন, পদ-পদবি মানুষকে বড় করে না—চরিত্রই মানুষকে অমর করে। ওসমান হাদির মতো মানুষ মৃত্যুর পরও মানুষের ভালোবাসায় বেঁচে থাকেন। তাঁর জানাজায় লাখো মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি কেবল ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং তা একটি সৎ, মানবিক ও দায়িত্বশীল জীবনের সামাজিক স্বীকৃতি। বিপরীতে, অনেক ক্ষমতাবান ও সুবিধাভোগী ব্যক্তি মারা গেলে আত্মীয়-স্বজন ছাড়া জানাজায় কয়জন মানুষ উপস্থিত হবেন—তা নিয়েই প্রশ্ন থেকে যায়। ইতিহাস সাক্ষী থাকবে, তাঁদের জানাজায় ওসমান হাদির মতো মানুষের ঢল নামবে না।
আবু সালেহ আকন তাঁর লেখায় আরও বলেন, এখনো সময় আছে আত্মসমালোচনার। লোভ-লালসা, দেশ বিক্রির ষড়যন্ত্র, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি এবং বিদেশি শক্তির কাছে মাথা নত করার রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। তাঁর মতে, জুলাই বিপ্লব শুধু ক্ষমতার পালাবদলের জন্য নয়, এটি ছিল নৈতিকতার পুনর্জাগরণের একটি ঐতিহাসিক সুযোগ।
জনগণের উদ্দেশে দেওয়া বার্তায় তিনি বলেন, পদ নয়—চরিত্রই শেষ পর্যন্ত মানুষকে ইতিহাসে স্মরণীয় করে রাখে। তাই সুবিধাভোগী হওয়ার আত্মতৃপ্তিতে নয়, বরং দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সততা ও ন্যায়বোধ চর্চার আহ্বান জানান তিনি। সময় থাকতে সবাই যদি ওসমান হাদির মতো মানুষ হওয়ার চেষ্টা করেন, তবেই জুলাই বিপ্লবের প্রকৃত সার্থকতা অর্জিত হবে।