নিজস্ব প্রতিবেদন
ভুয়া নিলামপত্র তৈরি ও পুকুরে বিষ প্রয়োগসহ হামলার চেষ্টা—আদালতে ১৪৪/১৪৫ ধারা জারি, উত্তেজনা বিরাজ।
খুলনা দৌলতপুরে প্রায় ৩৪ শতক পৈতৃক সম্পত্তির জবরদখলের চেষ্টা, ভুয়া নিলামপত্র তৈরি, পুকুরে প্রায় তিন লাখ টাকার মাছ নষ্ট করার অভিযোগ এনে এস.এম. সিরাজুল ইসলাম দৌলতপুর থানা ও আদালতে অভিযোগ করেছেন। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। আদালত ইতোমধ্যে নালিশী সম্পত্তিতে স্থিতি অবস্থা বজায় রাখার আদেশ দিয়েছেন।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, অভিযোগকারী এস.এম. সিরাজুল ইসলাম তাঁর পিতা মৃত এস.এম. আমির হোসেনের রেখে যাওয়া দলিল নং ৭৭৪০/৬৩, ৪৫৭/৬৪ ও ৫১৪০/৭৩ মূলে মোট ৩৪ একর সম্পত্তির বৈধ ওয়ারিশ। তিনি ও তাঁর ভাই–বোনসহ উত্তরাধিকারীরা দীর্ঘদিন ধরে ওই সম্পত্তিতে বসতঘর, রান্নাঘর, পুকুর, বাগান ও মাছ চাষ করে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করে আসছেন। অভিযোগকারী জানান, সম্পত্তির ওপর খুলনা সিটি করপোরেশনের হোল্ডিং নম্বর ও বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়েও বসবাস চলছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিপক্ষ মাসুদ আহসান পাপ্পু ও পরাগসহ অজ্ঞাত ১০–১৫ জন ভুয়া নিলামপত্র তৈরি করে পুরোনো নালিশী সম্পত্তি নিজেদের নামে রেকর্ড করায় এবং কৌশলে দখলের চেষ্টা শুরু করে। এমনকি তাঁরা পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে প্রায় তিন লাখ টাকার মাছ মেরে ফেলেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
গত ১৮ নভেম্বর সকাল ১০টার দিকে প্রতিপক্ষরা দা–সাবল, বাঁশের বেড়া, তার, কোদালসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সম্পত্তিতে প্রবেশ করে ঘেরাও করে দখলচেষ্টার চেষ্টা চালায়। স্থানীয় বাসিন্দা ও সাক্ষীরা প্রতিরোধ করলে প্রতিপক্ষরা হুমকি দিয়ে বলে—“আরো লোক নিয়ে এসে জায়গা দখল করব।” এতে এলাকায় চরম উত্তেজনা দেখা দেয়।
ওই পরিস্থিতিতে প্রথম পক্ষ গত ২০ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে খুলনার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দৌলতপুর এমপি–৮০২/২৫ নং মামলা করে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪/১৪৫ ধারাতে আবেদন করলে আদালত নালিশী সম্পত্তিতে স্থিতি বজায় রাখার নির্দেশ দেন।
অভিযোগকারী আরও জানান, এর আগে প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে দেওয়ানী ২৫/১৫ নং মামলা আদালতে চলমান রয়েছে, যাতেও নিষেধাজ্ঞার আদেশ রয়েছে।
এদিকে, দৌলতপুর থানায় দায়ের করা অভিযোগে এস.এম. সিরাজুল ইসলাম তাঁর ওয়ারিশদের নিরাপত্তা এবং সম্পত্তি জবরদখল প্রতিরোধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানিয়েছেন।
অভিযোগের অনুলিপি পুলিশ কমিশনার কেএমপি খুলনা, র্যাব–৬, যৌথ বাহিনী ক্যাম্প ও খুলনা ডিআইজি কার্যালয়েও পাঠানো হয়েছে।
তফসিল সম্পত্তি:
দৌলতপুর মৌজার জে.এল নং–১, সি.এস খতিয়ান–১৩৯, এস.এস খতিয়ান–১৪৬, দাগ–১৫০; এস.এ/বি.আর.এস খতিয়ান–১১৩, দাগ–১৪৬ ও অন্যান্য খতিয়ানভুক্ত মোট ০.৩৪ একর জমি।