নিজস্ব প্রতিবেদক
পদ্মা ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান চৌধুরী নাফিস সরাফতসহ চারজনের বিরুদ্ধে ১,৬১৩ কোটি ৬৮ লাখ টাকার অর্থপাচারের অভিযোগে মামলা করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
মামলার অন্যান্য তিন আসামি হলেন—নাফিস সরাফতের স্ত্রী আঞ্জুমান আরা শহীদ, ছেলে রাহীব সাফওয়ান সরাফত চৌধুরী এবং নাফিস সরাফতের সহযোগী ড. হাসান তাহের ইমাম।
মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের অধীনে মামলা করা হয়েছে বৃহস্পতিবার গুলশান থানায়। সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট এটি দায়ের করেছে।
সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান শুক্রবার সাংবাদিকদের জানান, শুধু রাহীব সাফওয়ান সরাফতের নামে বিদেশের বিভিন্ন ব্যাংকে ৭৬টি অ্যাকাউন্ট পরিচালনার তথ্য পাওয়া গেছে।
সিআইডির প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, নাফিস সরাফত ও তার সহযোগীরা রেইস ম্যানেজমেন্ট পিএসিএল নামে একটি সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে ফান্ডের অর্থ ব্যক্তিগত ও অবৈধ স্বার্থে ব্যবহার করেছেন। প্রতিষ্ঠানটি ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর ২০১৩ সালের মধ্যেই ১০টি মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ডের ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব নেয় এবং বর্তমানে ১৩টি ফান্ড পরিচালনা করছে।
নাফিস সরাফত, তার স্ত্রী আঞ্জুমান আরা শহীদ ও সহযোগী ড. হাসান তাহের ইমাম মিলে ফান্ডের অর্থ ব্যবহার করে ফারমার্স ব্যাংকের শেয়ার কিনে পরবর্তীতে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে স্থান করে নেন। একইভাবে আঞ্জুমান আরা শহীদকে সাউথইস্ট ব্যাংকের পরিচালক পদে বসানো হয়।
অভিযুক্তরা ফান্ডের অর্থ ব্যবহার করে মাল্টি সিকিউরিটিজ নামের ব্রোকারেজ হাউসও অধিগ্রহণ করেন। প্রতিষ্ঠানটির ট্রেড লাইসেন্স ব্যবহার করে প্রতারণার মাধ্যমে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। এছাড়া পদ্মা ব্যাংকের অর্থ ব্যবহার করে পদ্মা ব্যাংক সিকিউরিটিজ এবং স্ট্র্যাটেজিক ইকুইটি ফান্ডে বিনিয়োগের মাধ্যমে ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের প্রমাণ রয়েছে।
সিআইডি অনুসারে, নাফিস সরাফত, তার স্ত্রী এবং ছেলে রাহীব সাফওয়ান সরাফত চৌধুরীর নামে মোট ৭৮টি ব্যাংক হিসাব পরিচালিত হয়েছে। এসব হিসাবের মধ্যে প্রায় ১,৮০৯ কোটি টাকা জমা এবং ১,৮০৫ কোটি টাকা উত্তোলনের তথ্য পাওয়া গেছে। বর্তমানে এসব হিসাবের স্থিতি মাত্র ২৯.২১ লাখ টাকা।
বিদেশে কানাডা, সিঙ্গাপুর, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিভিন্ন দেশে নাফিস সরাফত পরিবারের নামে বিপুল সম্পদ, ব্যাংক হিসাব ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের তথ্য পাওয়া গেছে। দুবাইতে তাদের নামে ৩ রুমের ফ্ল্যাট ও ৫ রুমের ভিলা রয়েছে। ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডে কয়েকটি কোম্পানি এবং সিঙ্গাপুরে বিভিন্ন ফান্ড পরিচালনার প্রমাণও রয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুসারে—বেস্ট হোল্ডিংসের বন্ডে ৫০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ, বিদেশে অর্থপাচার, বাড়ি-ফ্ল্যাট কেনাসহ নানা অভিযোগের প্রেক্ষিতে সিআইডি অনুসন্ধান শুরু করে।
সিআইডি জানায়, ‘প্রতারণা, জালিয়াতি এবং দেশি-বিদেশি মুদ্রা পাচার’ের মাধ্যমে মোট ১,৬১৩ কোটি ৬৮ লাখ টাকার বেশি অর্থ অবৈধভাবে অর্জন হয়েছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে নাফিস সরাফতসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।