রাজধানীর গুলশান এলাকায় অবস্থিত ‘রূপসা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্প’ নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের অ্যানফোর্সমেন্ট টিম প্রাথমিক পর্যায়ে প্লট বরাদ্দ, ফ্ল্যাট মূল্য এবং আইনি প্রক্রিয়া সংক্রান্ত নথিপত্র সংগ্রহ করেছে।
দুদক সূত্র জানায়, প্রকল্পের ফ্ল্যাটগুলো বিভিন্ন সময়ে সাবেক বিচারপতি, উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বরাদ্দ হয়েছে। বরাদ্দ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও আইনি নিয়মনীতি অনুসরণ হয়েছে কি না তা যাচাই করার জন্য অনুসন্ধান চলছে।
এছাড়া প্রকল্পে বরাদ্দ পেয়েছেন—
প্রকল্পের প্লটটি অবস্থিত গুলশান মডেল টাউনের সিএনডব্লিউ (বি) রোড ৩৫, বাড়ী-৮।
নথিপত্র অনুযায়ী, ১৯৬৩ সালে তৎকালীন ঢাকা ইমপ্রুভমেন্ট ট্রাস্ট (ডিআইটি) ৯৯ বছরের লিজ ডিডে ওসমান শেখকে বরাদ্দ দেন। পরে ১৯৯০ সালে তিনি সম্পত্তিটি স্ত্রী জাহিরা ওসমানকে দান করেন।
প্লটের মালিকানা নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হলে ১৯৮৯ সালে ‘কোর্ট অব সেটেলমেন্ট’-এ মামলা হয়। ১৯৯১ সালে আদালত জাহিরা ওসমান-এর পক্ষে রায় দেন। পরবর্তী সময়ে সরকারপক্ষ ১৯৯৭ সালে রিট করেন। হাইকোর্ট আগের রায় বহাল রাখে এবং রাজউককে নির্দেশ দেয় দুই মাসের মধ্যে প্লট বুঝিয়ে দিতে।
জাহিরা ওসমান অভিযোগ করেন, আদালতের রায় থাকা সত্ত্বেও প্লটটি ফেরত দেওয়া হয়নি। পরে তিনি আদালত অবমাননার মামলা দায়ের করেন। ওই সময়ে রাজউক ‘রূপসা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্প’ চালু করে।
৩২ কাঠার প্লটে নির্মিত প্রতিটি ফ্ল্যাটের আয়তন প্রায় ৩ হাজার ৯৯ বর্গফুট। প্রতি বর্গফুটের মূল্য ধরা হয়েছে ১৪ হাজার টাকা। একেকটি ফ্ল্যাটের মোট মূল্য দাঁড়ায় সাড়ে ৪ কোটি টাকা। কার পার্কিং ও ইউটিলিটি স্পেসের জন্য অতিরিক্ত মূল্য ধরা হয়েছে।
দাবিদার অভিযোগ, ফ্ল্যাট বরাদ্দের প্রকৃত মূল্য বাজার মূল্যের তুলনায় কম ছিল। এই বিষয়টি অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে দুদক যাচাই করছে।
চলতি বছরের ১৮ জুন রাজউকের ‘রূপসা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্প’-এ দুদকের অ্যানফোর্সমেন্ট টিম অভিযান পরিচালনা করে। উপ-পরিচালক (জনসংযোগ) মো: আকতারুল ইসলাম জানান, “বরাদ্দপ্রক্রিয়ায় অনিয়মের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। আবেদনপত্র, বরাদ্দ নথি ও বরাদ্দপ্রাপ্তদের তালিকা সংগ্রহ করা হয়েছে। আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধান শুরু হয়েছে।
প্রকৃত মালিক দাবিদার (মোক্তার দলিল অনুযায়ী) মো: মোতালেব ভূঁইয়া অভিযোগ করেন,
“হাইকোর্টের রায় আমাদের পক্ষে এসেছে। তবুও রায়ের তথ্য গোপন করে প্লট বরাদ্দ করা হয়েছে। আমি এখনও আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছি।”
মন্তব্য করুন