অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ : Sep 19, 2025 ইং
অনলাইন সংস্করণ

চলন্ত বাসে মারধর ও হত্যার হুমকি: যাত্রীদের নিরাপত্তা প্রশ্নবিদ্ধ

চলন্ত বাসে মারধর ও হত্যার হুমকি: যাত্রীদের নিরাপত্তা প্রশ্নবিদ্ধ


সাগর আহমেদ, ঘাটাইল প্রতিনিধি

ঘাটাইলের চন্দ্রা এলাকায় চলন্ত বাসে যাত্রীদের মারধর ও হত্যার হুমকির অভিযোগ নতুন করে যাত্রীসাধারণকে আতঙ্কিত করেছে। ১৮ সেপ্টেম্বর রাত ১০.৩০ মিনিটে ঘটনার শিকার হয়েছেন দুই যাত্রী। ভুক্তভোগীরা দাবি করেছেন, বাসের চালকের সহকারী তাদেরকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছেন এবং নির্জন স্থানে নামিয়ে হত্যার হুমকি দিয়েছেন।

এই ঘটনা তুলে ধরেছে যাত্রীসাধারণের নিরাপত্তা ও পরিবহন ব্যবস্থার দুর্বলতা, যা একদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা ও পরিবহন কর্তৃপক্ষের প্রতি প্রশ্ন তোলে।

ভুক্তভোগী আসলাম (২০) জানান, “আমরা ঘাটাইল থেকে বাইপাইল এলাকায় যেতে মাহিন পরিবহনের একটি বাসে উঠি। গাড়ির নাম্বার ছিল ১৭৭৪৭৫। আমাদের বারবার বলা হয়েছিল, চন্দ্রা এলাকায় নামানো যাবে না। কিন্তু বাস যখন চন্দ্রা এলাকায় পৌঁছায়, তখন বাসের চালকের সহকারী আমাদের নামিয়ে দিতে চাই। আমরা গাবতলির ভাড়া দিয়েছি, কিন্তু ভাড়া ফেরত চাইলে আমাদের ওপর হাত তোলা হয় এবং হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। চন্দ্রা বাস কাউন্টার থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে একটি নির্জন স্থানে আমাদের নামিয়ে দেয়া হয়।”

ভুক্তভোগীর দাবি, “চলন্ত বাসে এই ধরনের আচরণ আমাদের সঙ্গে প্রতিনিয়ত ঘটে। যাত্রীরা নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছে না। আমি চাই, এই ঘটনার সঠিক তদন্ত ও বিচার হোক।”


আসলাম আরও বলেন, “আমাদের সঙ্গে শারীরিক লাঞ্ছনা করা হয়েছে। বাসে যাত্রীরা অনেক সময়ই দমন, হুমকি বা মানহানির সম্মুখীন হন। পরবর্তী সময়ে যদি এ ধরনের ঘটনা না হয়, সেই নিশ্চয়তা চাই।”

তিনি আরও জানান, এ ঘটনার বিষয়ে তিনি আইনানুগ পদক্ষেপ নেবেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, মাহিন পরিবহন দীর্ঘদিন ধরে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ। বাসের চালক ও সহকারী প্রায়ই নিজেরা যাত্রীদের উপর কর্তৃত্ব দেখানোর চেষ্টা করেন। যাত্রীদের সঙ্গে অভদ্র আচরণ, অতিরিক্ত ভাড়া দাবি এবং কোনো আপত্তিকর পরিস্থিতিতে শারীরিক হুমকি দেয়ার অভিযোগ পুরনো।

এক বাস চলক (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) জানিয়েছেন, “অনেক সময় যাত্রীদের সাথে ঝগড়া হয়, কিন্তু কর্তৃপক্ষের নজর পড়ে না। যাত্রী নিরাপত্তা এখন কাগজে কলমে সীমাবদ্ধ।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, চলন্ত বাসে নিরাপত্তার অভাব শুধু অপরাধীর সুযোগ নয়, বরং সরকারের পরিবহন নীতি এবং স্থানীয় প্রশাসনের কার্যকারিতার এক দুর্বল দিক।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের এক অধ্যাপক বলেন, “যাত্রী সুরক্ষা নিশ্চিত করা না হলে যাত্রীরা অনিরাপদ পরিবেশে বাস ব্যবহার করতে বাধ্য। এটি নাগরিক নিরাপত্তার একটি গুরুতর চ্যালেঞ্জ।

ঘাটাইলের বিভিন্ন এলাকার বাস যাত্রীরা ইতিমধ্যেই অসংখ্যবার একই ধরনের পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছেন। স্থানীয় সূত্র বলছে, মাহিন পরিবহন দীর্ঘদিন ধরে এই ধরনের অভিযোগে নাম রয়েছে।

এক ভুক্তভোগী বলেন, “আগেও যাত্রীদের মারধর এবং হুমকি দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু এখনো কেউ কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি।

ভুক্তভোগী আসলাম জানিয়েছে, তিনি এ ঘটনার বিষয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করবেন। স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তা জানান, “যদি লিখিত অভিযোগ আসে, আমরা সঠিক তদন্ত শুরু করব এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।”

তবে স্থানীয় বাস যাত্রীরা মনে করেন, অনেক সময় পুলিশ অভিযোগের গুরুত্ব দেয় না। তাদের অভিযোগ অনুযায়ী, বাস চলকরা প্রায়ই স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগসাজশ করে অভিযোগ এড়িয়ে যান।

চলন্ত বাসে এ ধরনের আক্রমণ এবং হুমকি যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। এক যাত্রী বলেন, “আমি প্রতিনিয়ত ভয়ে বাসে ওঠি। জানি, কোনো অসহায় অবস্থায় আমরা নিরাপদ নই।”

অন্য একজন বলেন, “আমরা চাই পরিবহন সংস্থাগুলি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলি ব্যবস্থা নিক। না হলে যাত্রীরা আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

মাহিন পরিবহনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তারা প্রতিক্রিয়া দিতে অস্বীকার করেন। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা জানান, “ঘটনা তদন্ত করা হচ্ছে। দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাংলাদেশে সড়ক পরিবহন আইন স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে, যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পরিবহন সংস্থার দায়িত্ব। আইন অনুযায়ী, চলন্ত যানবাহনে যাত্রীকে লাঞ্ছিত বা হুমকি দেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট চালক ও সহকারীকে শাস্তি দিতে হবে।

তবে প্রায়শই বাস্তবায়নে দুর্বলতা দেখা যায়। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, “যদি নিয়মিত তদন্ত ও কঠোর শাস্তি না থাকে, তবে এই ধরনের ঘটনা বাড়তেই থাকবে।

ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন ও পরিবহন সংস্থার প্রতি চাপ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাস যাত্রীরা নিরাপদ পরিবহন নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।

এক যাত্রী বলেন, “আমরা চাই, এ ধরনের ঘটনা পুনরায় ঘটবে না। চালক ও সহকারীকে শাস্তি না দিলে, যাত্রীরা নিরাপদ থাকবে না।

তথ্য বলছে— চলন্ত বাসে যাত্রী মারধর ও হত্যার হুমকির ঘটনা শুধু দু’জনের সমস্যা নয়, এটি পুরো পরিবহন ব্যবস্থার নিরাপত্তা, প্রশাসনিক তদারকি ও আইনের শৃঙ্খলার প্রশ্ন তুলে।

ভুক্তভোগীরা বলেছেন, “আমরা নিরাপদে যাতায়াত চাই এবং বিচার চাই।” সূত্র জানায়— অভিযোগ সঠিক হলে, সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

প্রশাসন ও পরিবহন সংস্থা প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে, চলন্ত বাসে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন হবে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

মাদারীপুরে অতিরিক্ত দামে ডিজেল বিক্রি, ভ্রাম্যমাণ আদালতে ব্য

1

খুলনায় নতুন কেন্দ্রীয় কারাগারের নির্মাণ কাজ শেষের পথে

2

নোয়াখালীতে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক মামলার প্রতিবা

3

সিলেটে শপিংমলে লুটপাট নিয়ে পুরোনো ভিডিও দিয়ে বিভ্রান্তি শনাক

4

বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ডের অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে নতুন রাষ্ট

5

ট্রান্সকমের সিমিন রহমানের বিরুদ্ধে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ তদন্ত

6

বাংলাদেশ সীমান্তের পাশে তিন সেনা ঘাঁটি স্থাপন করেছে ভারত

7

জয়পুরহাটে রবিদাস পরিবার উচ্ছেদ নিয়ে প্রশ্ন, প্রভাবশালীর দখলদ

8

সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির ৩৬ প্রার্থীর নাম ঘোষণা

9

আইজিডব্লিউ রেট পরিবর্তন: বিটিআরসির সাবেক ৩ চেয়ারম্যানসহ ৬ কর

10

দুদকের রেকর্ড: ১১ মাসে ২৬ হাজার কোটি টাকার সম্পদ ক্রোক ও অবর

11

তুমিও ফেল, ছয় মাস পর আমিও ফেল’—শিক্ষার্থীদের অভিযোগে শিক্ষাম

12

টাকার বিনিময়ে তারকাদের ১৫ আগস্ট নিয়ে পোস্ট— অনুসন্ধানে যা জ

13

বাড়ির দোতলায়ও পানি, ভাই–বোনের খোঁজ পাচ্ছেন না গায়িকা পুতুল

14

মওলানা ভাসানী সেতুর স্বপ্নযাত্রা শুরু

15

রাজশাহীতে বাড়ছে এইচআইভি সংক্রমণ, চিকিৎসকদের সতর্কবার্তা

16

ছাত্ররাজনীতি থেকে জাতীয় সংসদে চার নারী নেত্রী

17

ঢাকায় অপরাধ জগতে ‘পেনগান’ আতঙ্ক: নতুন ক্ষুদ্র অস্ত্র নিয়ে সত

18

মোংলায় কোস্টগার্ডের নেতৃত্বে যৌথবাহিনীর অভিযানে দুই মাদক ব্য

19

আবু সাঈদ হত্যা মামলা: দুই পুলিশ সদস্যের মৃত্যুদণ্ড, রায়কে অব

20