নিজস্ব প্রতিবেদক
বড় আকারের দুর্নীতি এখন আগের মতো ‘টাকার বস্তা’ নেওয়া–দেওয়ার মাধ্যমে নয়, বরং আইটি–নির্ভর লেনদেনের মাধ্যমেই বেশি ঘটছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আর্থিক লেনদেন ডিজিটাল হওয়ায় দুর্নীতির ধরন পরিবর্তিত হয়েছে এবং অল্প সময়ের মধ্যে বিপুল অঙ্কের অর্থ বিদেশে স্থানান্তরও সম্ভব হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) রাজধানীর বেইলি রোডের ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে ‘দুর্নীতি দমন কমিশন সংশোধন (সংশোধন) অধ্যাদেশ–২০২৫’–এর চূড়ান্ত অনুমোদন–পরবর্তী প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের সভায় অধ্যাদেশটি নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন পায়।
প্রেস সচিব জানান, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কার্যকারিতা বাড়াতে উপদেষ্টা পরিষদ আগে একটি বিশেষ কমিশন গঠন করেছিল। বাংলাদেশের দুর্নীতির ধরন, চ্যালেঞ্জ এবং প্রতিরোধ–ব্যবস্থা নিয়ে সেই কমিশন একটি বিস্তৃত প্রতিবেদন দেয়।
শফিকুল আলমের বক্তব্য অনুযায়ী, কমিশনের প্রস্তাব এবং সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতামত বিবেচনা করে দুর্নীতি দমন আইন সংশোধন–সংক্রান্ত অধ্যাদেশটি চূড়ান্ত করা হয়েছে। তিনি বলেন, অধ্যাদেশ প্রণয়নের আগে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, আইন সচিব, দুদকের কর্মকর্তারা এবং টিআইবির ড. ইফতেখারুজ্জামানসহ বিভিন্ন পক্ষ কয়েক সপ্তাহ ধরে যৌথভাবে কাজ করেছেন।
নতুন অধ্যাদেশের খসড়ায় থাকা একটি ওভারসাইট বডি বা পর্যবেক্ষণ কমিটি শেষ মুহূর্তে বাদ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে প্রেস সচিব বলেন, দেশে দুর্নীতির ধরণ স্তরভিত্তিক হওয়ায়—“ওভারসাইট বডি গঠন করা হলেও সেখানে নতুনভাবে দুর্নীতি সৃষ্টি হতে পারে”—বিবেচনায় রাখা হয়েছে।
নতুন কমিশন কাঠামো: আইটি–পটভূমিসম্পন্ন সদস্য ও নারী কমিশনারের প্রস্তাব
শফিকুল আলম জানান, নতুন ব্যবস্থায় পাঁচ সদস্যের কমিশন গঠন করার কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে কমপক্ষে এক বা দুইজন সদস্যের আইটি ব্যাকগ্রাউন্ড থাকবে, যাতে প্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক লেনদেন ও সাইবার–ভিত্তিক দুর্নীতি পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হয়। পাশাপাশি একজন নারী কমিশনার নিয়োগের প্রস্তাবও রাখা হয়েছে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি আরও বলেন, ডিজিটাল লেনদেনের যুগে দুর্নীতির ধরন দ্রুত বদলে যাচ্ছে। তাই দুর্নীতি দমনে প্রযুক্তিনির্ভর সক্ষমতা বাড়ানো এখন সময়ের দাবি।