চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষের পরও অশান্ত পরিবেশ, শিক্ষার্থীদের হলে অবস্থান
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে সংঘর্ষ থামার একদিন পরও পুরো ক্যাম্পাস এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই নম্বর গেট এলাকায় অশান্ত ও উদ্বেগজনক পরিস্থিতি বিরাজ করছে। নিরাপত্তাজনিত কারণে আশপাশের ভাড়া বাসা থেকে অনেক শিক্ষার্থী আবাসিক হলে চলে আসছেন। তারা দ্রুত শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
মাঠপর্যায়ের চিত্র
সোমবার সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, দুই নম্বর গেটের আশপাশে অল্প কিছু দোকান খোলা থাকলেও মানুষের চলাফেরা সীমিত ছিল। সেখানে সেনাবাহিনী ও র্যাব সদস্যরা অবস্থান করছেন এবং বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় টহল জোরদার করা হয়েছে।
প্রশাসনের সিদ্ধান্ত
বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিস কার্যক্রম চালু থাকলেও সব ধরনের ক্লাস ও পরীক্ষা আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। চবি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ১৪৪ ধারা কার্যকর থাকবে এবং বাইরে থাকা শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে সব আবাসিক হল উন্মুক্ত থাকবে। সংঘর্ষে আহতদের চিকিৎসা ব্যয় বিশ্ববিদ্যালয় বহন করবে বলেও জানানো হয়েছে।
তদন্ত ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ
ঘটনাটি তদন্তের জন্য সোমবার একটি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জোবরা এলাকায় সংঘর্ষ চলাকালে লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধারে উদ্যোগ নেওয়া হবে। এছাড়া, স্থানীয় জোবরা-ফতেপুর এলাকার সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘমেয়াদী সম্পর্ক জোরদারের লক্ষ্যে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিনের নেতৃত্বে ২১ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। দুপুর ১টায় এ কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
শিক্ষার্থীদের বক্তব্য
দর্শন বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী নাঈম আহমেদ বলেন,
"স্থানীয়দের হামলার পর আমরা যারা বাইরে থাকি, তারা ভয়ের মধ্যে আছি। তাই এখন আবাসিক হলে একজন সিনিয়রের কক্ষে উঠেছি। আমরা চাই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দ্রুত সমস্যার সমাধান করুক।"
প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া
চবি উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিন বলেন,
"বর্তমানে পুরো ক্যাম্পাসে টানটান পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আমরা চেষ্টা করছি দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার।"