বিশেষ প্রতিবেদন | ঢাকা
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার সংকটের মধ্যে দেশে ফেরার প্রশ্নে নতুন রাজনৈতিক জটিলতা দেখা দিয়েছে। লন্ডনে অবস্থানকারী তারেক রহমান জানিয়েছেন, দেশে আসার সুযোগ তাঁর জন্য “অবারিত নয়” এবং তিনি দেশের ফেরার সিদ্ধান্ত এককভাবে নিতে পারছেন না।
এই মন্তব্যে জনমনে প্রশ্ন, উদ্বেগ ও বিস্ময় তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ধরনের পরিস্থিতি ইঙ্গিত দেয় যে, তিনি নিজ উদ্যোগে ফেরার ক্ষমতা রাখলেও কিছু বাহ্যিক বা অভ্যন্তরীণ চাপের কারণে তা প্রয়োগ করতে পারছেন না।
তথ্য বলছে: সম্ভাব্য বাধার কারণ
আইনি জটিলতা: তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দেশে চলমান মামলা এবং আদালতের নির্দেশের কারণে ফেরার ক্ষেত্রে আইনি প্রতিবন্ধকতা থাকতে পারে।
নিরাপত্তা উদ্বেগ: রাজনৈতিক অস্থিরতার সময়ে নিরাপত্তার বিষয়টি বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
রাজনৈতিক চাপ: দলের অভ্যন্তরীণ মতভেদের কারণে বা রাষ্ট্রীয়/অন্তর্বর্তীকালীন সংস্থা থেকে চাপ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
সূত্র জানায়, এই সব কারণে তারেক রহমান নিজ উদ্যোগে দেশে আসলেও কিছু প্রক্রিয়াগত বাধার কারণে তা কার্যকর হচ্ছে না।
জনগণের প্রশ্ন: কারা বাধা দিচ্ছে? জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে— রাষ্ট্রীয় কোনো সংস্থা কি তাকে দেশে ফিরতে বাধা দিচ্ছে? বিচার ব্যবস্থা কি সীমাবদ্ধতা তৈরি করছে?কোনো রাজনৈতিক অথবা আন্তর্জাতিক চাপের কারণে তিনি নিজ সিদ্ধান্ত প্রয়োগ করতে পারছেন না?
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ধরনের “অপারগতার” ইঙ্গিত দিলে জনগণের মধ্যে অবিশ্বাস ও আতঙ্ক তৈরি হয়।
ভুক্তভোগীর দৃষ্টিকোণ, খালেদা জিয়ার পরিবারের ঘনিষ্ঠ সূত্র বলছে, দেশে ফেরার বিষয়টি শুধুই রাজনৈতিক নয়, এটি মানবিক এবং পারিবারিক দায়বদ্ধতার বিষয়ও।
তারা মনে করেন, “জীবনের শেষ মুহূর্তে সন্তানকে পাশে থাকা একজন নাগরিক ও পরিবারের প্রতি কর্তব্য।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ বলছেন—
যদি একজন নেতা নিজ সিদ্ধান্ত নিতে অক্ষম হন, তবে তার দলীয় নেতৃত্ব ও দেশের প্রতি দায়িত্বকেও প্রভাবিত করে। কিন্তু এটি নেতার ‘অক্ষমতা’ নয়, বরং বাস্তব পরিস্থিতির কারণে বাধ্য হয়ে নেওয়া বাধ্যতামূলক অবস্থান।”
অর্থাৎ, দেশে আসতে পারছেন না তা তারেকের ইচ্ছার বিপরীত নয়, বরং বহিরাগত এবং অভ্যন্তরীণ জটিলতা এই পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
তারেক রহমান দেশে ফেরার চেষ্টা করছেন। তার কাছে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ইচ্ছা আছে, কিন্তু বিভিন্ন বাধা তার সিদ্ধান্ত প্রয়োগে সীমাবদ্ধতা তৈরি করছে।
এই পরিস্থিতি জনমনে প্রশ্ন তুলেছে, তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন—এটি তার ব্যক্তিগত অপারগতা নয়, বরং আইনি, নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক জটিলতার ফল।