নেত্রকোনা প্রতিবেদক
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি ড. আলী রিয়াজ পালিয়ে গেছেন—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ধরনের দাবি ডাহা মিথ্যা বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন যে ৯ মাসে ৮৩ কোটি টাকা খরচ করে ড. আলী রিয়াজ পালিয়ে গেছেন। কিন্তু এই টাকার হিসাব তিনি কোথা থেকে পেলেন, আমার জানা নেই।
শুক্রবার (৭ নভেম্বর) নেত্রকোনা সার্কিট হাউস মিলনায়তনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
তথ্য বলছে, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কমিশনের বাজেট, সদস্যদের কার্যক্রম এবং বিদেশ সফরের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যাচাইবিহীন এসব তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ফলে জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে।
প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, “জনপ্রিয়তা বাড়ানোর জন্য অনেকেই মিথ্যাচার করছেন। বাইরে টকশোতে সাধারণত সত্যবাদী ও গ্রহণযোগ্য মানুষকেই আনা হয়। কিন্তু আমাদের দেশে এ উল্টো চলে। কেউ মিথ্যা বললে, তাকে টকশোতে আনা হয়—কারণ এতে অনুষ্ঠানটি ‘গরম’ হয় এবং রেটিং বাড়ে। ফলে মিথ্যা তথ্য পুরো দেশে ছড়িয়ে পড়ে।
তিনি আক্ষেপ করে বলেন, “আমরা মাইলস্টোন নিয়ে মিথ্যাচার দেখেছি, সেন্টমার্টিন নিয়ে গুজব ছড়ানো হয়েছে। উপদেষ্টাদের নাগরিকত্ব ও মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত বিভ্রান্তিকর খবরও চলছেই। এখন সেনাবাহিনী সম্পর্কেও মিথ্যা তথ্য প্রচার হচ্ছে। আমাদের সমাজকে এসব বিভ্রান্তি থেকে মুক্ত করতে হবে।
সূত্র জানায়, কর্মকর্তারা কমিশনের কার্যক্রম ও সরকারের উদ্যোগ নিয়ে ভুল তথ্য ছড়ানো প্রতিরোধে সতর্ক রয়েছেন।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জামান, পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রাফিকুজ্জামান।
প্রশ্ন উঠছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর প্রচার রোধে সরকারের তথ্য ব্যবস্থাপনা কতটা কার্যকর? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বচ্ছ তথ্যপ্রবাহ ও সময়োপযোগী প্রতিক্রিয়া ছাড়া মিথ্যা সংবাদ রোধ করা কঠিন।