অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ : Nov 26, 2025 ইং
অনলাইন সংস্করণ

দুদকের রেকর্ড: ১১ মাসে ২৬ হাজার কোটি টাকার সম্পদ ক্রোক ও অবরুদ্ধ


 স্টাফ রিপোর্টার 

গণঅভ্যুত্থানের পরবর্তী সময়ে দেশজুড়ে দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযানে রেকর্ড সাফল্য দেখিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সংস্থাটির তথ্য বলছে—২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত মাত্র ১১ মাসে দেশে-বিদেশে তিন শতাধিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের প্রায় ২৬ হাজার ১৩ কোটি টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ ক্রোক ও অবরুদ্ধ করা হয়েছে।

এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে একক সময়ে সর্বোচ্চ সম্পদ ক্রোকের ঘটনা। তুলনামূলকভাবে ২০২৪ সালের পুরো বছরে যেখানে ক্রোক-অবরুদ্ধ সম্পদের পরিমাণ ছিল মাত্র ৩৬১ কোটি টাকা, আর তার আগের পাঁচ বছরে (২০২০–২০২৪) মোট ক্রোক হয়েছিল প্রায় ৩ হাজার ৪৫০ কোটি টাকা।

দুদক ও আদালত সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী গত ১১ মাসে— দেশে ক্রোক: ৩,৪৫৭ কোটি ৮৩ লাখ ৪৭ হাজার টাকা। দেশে ফ্রিজ (ব্যাংক হিসাব): ২২,২২৬ কোটি ৭৯ লাখ ৩২ হাজার টাকা। বিদেশে ফ্রিজ: ৩২৮ কোটি ৩৮ লাখ ১৩ হাজার টাকা। মোট প্রায়: ২৬,০১৩ কোটি ২ লাখ ৯৩ হাজার টাকা।  আদালতের নির্দেশে দুদকের সম্পদ ব্যবস্থাপনা ইউনিটের মাধ্যমে ক্রোক/ফ্রিজ করা হয়।


শাস্তি পেলেন ১২৬ জন,দুদকের হিসাব অনুযায়ী ১১ মাসে— মামলা নিষ্পত্তি: ২৪৯টি,সাজা: ১২৬টি
খালাস: ১২৩টি জরিমানা আদায়: ৫,০৫৮ কোটি টাকা, বাজেয়াপ্ত সম্পদ: ৩২১ কোটি টাকা


এ সময়ে মোট ৫১২টি মামলা দায়ের করা হয়েছে, যেখানে অভিযুক্ত করা হয়েছে ২,১৯১ জনকে। চার্জশিট দেওয়া হয়েছে ৩১৫ মামলায়, এতে আসামি ১,০৭৮ জন।
এফআরটি দিয়ে মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন ৭৩ জন।


অভিযোগের পরিসংখ্যান: ১১ হাজার অভিযোগের মধ্যে অনুসন্ধান মাত্র ৯৬০টি
ডিসেম্বর–অক্টোবর সময়ে দুদকে মোট অভিযোগ এসেছে ১১,৬৩০টি। এর মধ্যে অনুসন্ধানের জন্য গ্রহণ করা হয়েছে মাত্র ৯৬০টি। এই সময়ে— এনফোর্সমেন্ট অভিযান: ৭৯৮টি,অনুসন্ধানাধীন: ১৮৮টি, মামলা হয়েছে: ২৮টি।ফাঁদ পেতে গ্রেফতার: ৪টি,গণশুনানি: ২৩টি


দুদক বলছে—‘দন্ত ও নখ আছে, আরও শার্প করা দরকার
দুদকের কমিশনার মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী বলেন—
দুদকের দন্ত ও নখ রয়েছে। এগুলো আরও শার্প করা হতে পারে। দুদক যথার্থ আইনি শক্তিতে মহিয়ান। বিচারকাজে গতি আনতে আরও বিশেষ আদালত প্রয়োজন।


২০২৪ সালের ৫ আগস্ট জনবিক্ষোভের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, প্রভাবশালী গোষ্ঠী এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতি, অর্থপাচার ও সরকারি সম্পদ লোপাটের অভিযোগ অনুসন্ধানে জোর দেয় দুদক।
তথ্য বলছে, তদন্তে বহু ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে দেশ–বিদেশে অর্থপাচারসহ বিভিন্ন অপরাধের প্রমাণ মেলে। এরপরই একের পর এক মামলা এবং সম্পদ ক্রোকের নির্দেশ আসতে থাকে আদালত থেকে—যা এখনও চলমান।


মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

টাঙ্গাইলে কুশারিয়া উচ্চ বিদ্যালয় খেলায় অংশ না নেওয়ায় ক্ষুব্ধ

1

রাজউকের আরবান রেজিলিয়েন্স প্রকল্প দুর্নীতি, অকার্যকর যন্ত্রপ

2

বিএনপির বিজয় ঠেকাতে নানা চেষ্টা চলছে — মন্তব্য তারেক রহমানে

3

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের ব্যয় নিয়ে তোলা অভিযোগ ভিত্তিহীন: কমিশনে

4

জয়পুরহাটে দূর্গাপূজা ঘিরে নিরাপত্তা: পুলিশ সুপারের সঙ্গে সাং

5

১ লাখ ৭০ হাজার টন সার ক্রয়ের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকার

6

আরো ১৬টি দেশি পর্যবেক্ষক সংস্থাকে নিবন্ধন দেওয়ার সিদ্ধান্ত ই

7

প্রবাসীর স্ত্রীর হাত ধরে ‘নিখোঁজ’ পুলিশ কর্মকর্তা

8

পুলিশের লুট হওয়া অস্ত্র-গুলি উদ্ধারে ৫০০ থেকে ৫ লাখ টাকা পুর

9

নারী ও শিশু নির্যাতন মামলা দ্রুত নিষ্পত্তিতে কাজ করছেন চট্টগ

10

খরচ কমাবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

11

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নতুন নিয়োগ বিধিমালা,

12

বিশ্বকাপ নিয়ে রিভালদোর সঙ্গে তর্কে জড়ালেন নেইমার

13

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘গোপন রাজনীতি’ নিষিদ্ধের দাবি জানাল ছাত্রদ

14

ফেসবুকে 'অর্গানিক' ও '১০০% গ্যারান্টি' দাবির আড়ালে বিপজ্জনক

15

৮০ কোটি টাকা কমিশন ডিসি-এসপির দপ্তরে

16

পরিবারের আকুতি আছিয়াকে বাঁচান

17

১৭ বছর পর দেশে ফিরছেন তারেক রহমান, ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই

18

খুলনায় নতুন কেন্দ্রীয় কারাগারের নির্মাণ কাজ শেষের পথে

19

খুলনায় রৌদ্রছায়া ফাউন্ডেশনের উদ্যোক্তা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ উদ

20