স্টাফ রিপোর্টার
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) সচিব মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন–এর বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে (সিডিএ) দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে প্লট বরাদ্দ–সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তর এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য দেয়নি।
প্রশ্ন উঠছে—বরাদ্দ প্রক্রিয়া কি নিয়ম মেনে হয়েছে?
সূত্র জানায়, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে আশরাফুল আমিন বিধি অনুযায়ী জনসাধারণের জন্য বিজ্ঞপ্তি ছাড়া প্লট বরাদ্দ নিয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তথ্য বলছে—বরাদ্দ পাওয়া প্লট পরে অন্য ব্যক্তির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল কি না, এ নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
আরও অভিযোগ, তিনি সিডিএর স্থায়ী কর্মকর্তা না হয়েও রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাব ব্যবহার করে অনন্যা ও কল্পলোক আবাসিক এলাকায় প্লট পেয়েছিলেন—এমন দাবি করেছে একাধিক সূত্র।
তবে এসব তথ্য–উপাত্তের স্বাধীন যাচাই এখনো হয়নি, এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও কোনো লিখিত ব্যাখ্যা দেয়নি।
কিছু সূত্র জানায়, শুধু একজন নয়—প্লট বরাদ্দ–সংক্রান্ত তথাকথিত সুবিধাভোগীদের তালিকায় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সাংবাদিক, সিডিএ বোর্ড সদস্য এবং বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা–কর্মচারীকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ফাঁস হওয়া তালিকা বলে পরিচিত একটি তথ্যে সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও সরকারি কর্মকর্তাদের নাম পাওয়া গেলেও, তালিকাটিরও স্বতন্ত্র যাচাই হয়নি। কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি এখন পর্যন্ত।
তথ্য বলছে, প্লট বরাদ্দের ক্ষেত্রে প্রবিধান অনুসারে—জনসাধারণের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ,আগে প্লট বা জমি থাকা ব্যক্তির অযোগ্যতা, সমান সুযোগ নিশ্চিতকরণ—এসব গুরুত্বপূর্ণ ধাপ পুরোপুরি অনুসরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
কিন্তু সিডিএ কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি যে বাস্তবে এসব নিয়ম মানা হয়েছিল কিনা।
বাজারমূল্যের চেয়ে কম দামে বরাদ্দ? প্রশ্ন উঠছে মূল্য–বৈষম্য নিয়ে
বিভিন্ন সূত্র দাবি করছে, স্থানীয় বাজারদরের তুলনায় কম মূল্যে কিছু ব্যক্তি প্লট পেয়েছেন—এমন অভিযোগ রয়েছে।তবে এ মূল্য নির্ধারণ কোন প্রক্রিয়ায় হয়েছে, কিংবা এটি কি বিশেষ বিবেচনায় করা কোনো নীতি–সিদ্ধ সিদ্ধান্ত ছিল—এসব বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ হয়নি।
শহুরে পরিকল্পনা–সম্পর্কিত কয়েকজন বিশেষজ্ঞ বলছেন, অভিযোগগুলো যদি সত্য হয়, তবে তা সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার–এর শামিল হতে পারে। তবে তারা এটিও স্পষ্ট করেছেন—
তদন্ত ছাড়া কোনো পক্ষকে দায়ী করা ঠিক নয়। অভিযোগ ও বাস্তবতার মধ্যে ব্যবধান রয়েছে; তথ্য যাচাই জরুরি।
যোগাযোগ করা হলে চসিক সচিব মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন সাংবাদিকদের হোয়াটস অ্যাপে কলে জানান—আমার নামে প্লট বরাদ্দ হয়েছিল। টাকার অভাবে নিতে পারিনি। তাই অন্য একজনের নামে দিয়ে দিয়েছি।
তিনি কোনো আর্থিক লেনদেন হয়েছিল কিনা—এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।
কয়েকজন সম্ভাব্য আবেদনকারী দাবি করেছেন, তারা বরাদ্দের বিষয়ে কোনো বিজ্ঞপ্তি পাননি। ফলে নিজেদের আবেদন করার সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তারা।
একজন ভুক্তভোগী বলেন,
যদি নিয়মমাফিক বিজ্ঞপ্তি হতো, আমরা আবেদন করতে পারতাম। পরে শুনে জানতে পারলাম, প্লট বরাদ্দ হয়ে গেছে।
তাদের দাবি—বরাদ্দ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই গেছে।
তথ্য বলছে—গত এক দশকে সিডিএতে প্লট বরাদ্দ নিয়ে অসঙ্গতির অভিযোগ বহুবার উঠেছে
চট্টগ্রাম নগর পরিকল্পনা–সংশ্লিষ্ট গবেষণায় দেখা যায়, গত দশ বছরে সিডিএর বিভিন্ন প্রকল্পে ৫০টির বেশি অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে—যার বেশিরভাগই বরাদ্দ প্রক্রিয়া ও বাজারমূল্যের ব্যবধান নিয়ে।
তবে এসব অভিযোগের কেবল অল্প কিছু আনুষ্ঠানিক তদন্তে গিয়েছিল—এমন তথ্যও পাওয়া যায়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন— অভিযোগ, নথি এবং বিভিন্ন সূত্রের বক্তব্য মিলিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রশাসনিক তদন্ত প্রয়োজন। যতক্ষণ না তদন্ত সম্পন্ন হচ্ছে, ততক্ষণ— অভিযোগগুলো যাচাই–অপেক্ষমাণ, কোনো পক্ষকে দায়ী করা অনুচিত, এবং কোনো তথ্য চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত নয়।
অনেকেই মনে করছেন, সিডিএতে অতীতের অন্যান্য অভিযোগের মতো এই ঘটনাটিও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে সত্য–মিথ্যা নির্ধারণ করা জরুরি।