স্টাফ রিপোর্টার
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর থানার পুলিশ কর্মকর্তা ও জেলার পুলিশ সুপারকে ঘিরে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ও ঘুষসংক্রান্ত অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারী সূত্র জানায়, দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিন পত্রিকার সাংবাদিক মিজানুর রহমান-এর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মিথ্যা মামলা দায়েরের ঘটনায় পুলিশের দায়িত্বপ্রাপ্তরা ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন।
অভিযোগপত্রটি ২৪ নভেম্বর পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক মেহেদী হাসান প্রধান উপদেষ্টা, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আইজিপি, দুদকসহ মোট ১০টি দপ্তরে জমা দিয়েছেন। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশ সুপার এহতেশামুল হক ও বিজয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি শহীদুল ইসলাম–এর কর্মকাণ্ডের কারণে সাংবাদিক হয়রানির ঘটনা ঘটেছে।
তথ্য বলছে, সম্প্রতি বিজয়নগর থানাধীন এলাকায় একটি মারামারির ঘটনা থামাতে গিয়ে পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগকারীর বক্তব্য অনুযায়ী, পুলিশ এ্যাসল্ট আইন অনুযায়ী হামলাকারীদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করতে পারলেও তা হয়নি।
অভিযোগ সূত্র জানায়, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের কাছ থেকে মোট অংকের টাকা গ্রহণ করা হয়েছে। এরপর, সাংবাদিক মিজানুর রহমান ওই বিষয় নিয়ে “ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে পুলিশের রক্তের বিনিময়ে ঘুষ নিলেন ওসি শহীদুল” শিরোনামে ধারাবাহিক ভিডিও প্রতিবেদন প্রকাশ করেন।
সূত্র জানায়, এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর পুলিশ সুপার এবং ওসি শহীদুল ইসলাম ক্ষুব্ধ হন। অভিযোগে বলা হয়েছে, এরপর সাংবাদিক মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে একাধিক চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করা হয়, যেখানে অভিযোগে উল্লেখিত কোনো প্রমাণ নেই।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ওসি শহীদুল ইসলাম ঘুষ আদায়ের একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। সূত্র জানায়, মামলা দায়ের বা না করার ক্ষেত্রে স্থানীয় দালালদের মাধ্যমে টাকা নেওয়া হয়েছে। তথ্য বলছে, ঘুষের একটি অংশ নিয়মিত পুলিশ সুপার এহতেশামুল হকের কাছে পৌঁছে।
অভিযোগ অনুসারে, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উভয় কর্মকর্তার অবৈধ সম্পদ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দিন দিন প্রভাবিত হচ্ছে।
আইন ও গণমাধ্যম বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের এবং পুলিশের ক্ষমতার অপব্যবহার জনস্বার্থের জন্য হুমকি।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন,
যদি অভিযোগগুলো সত্যি প্রমাণিত হয়, তবে এটি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার ও গণমাধ্যম স্বাধীনতার সীমাবদ্ধতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হতে পারে। এছাড়া, স্থানীয় প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতার জন্য প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ওসি শহীদুল ইসলামের নিয়ন্ত্রণাধীন ৫-৯ জনের দালাল সিন্ডিকেট রয়েছে।
এই সিন্ডিকেট ছাড়া বিজয়নগর থানায় কোনো মামলা দায়ের হয় না, অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মামলাগুলোতে নেওয়া মোট অংকের ঘুষ উভয় কর্মকর্তার পকেটে পৌঁছে।
অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়েছে—ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশ সুপার এহতেশামুল হক এবং ওসি শহীদুল ইসলাম–এর কর্মকাণ্ডের সুষ্ঠ তদন্ত করা হোক।উভয়ের অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধান ও প্রমাণিত হলে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হোক।প্রয়োজন হলে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হওয়া এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষা করা হোক।
তথ্য বলছে, জেলা পুলিশ সুপার বা ওসি শহীদুল ইসলাম এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেননি।
প্রশ্ন উঠছে, অভিযোগগুলো যাচাইয়ের পরই পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে। সূত্র জানায়, অনুসন্ধান চলমান থাকলে আরও বিস্তারিত তথ্য উঠে আসতে পারে।