দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নদী ভৈরব আজ দখল ও দূষণের মুখে। নদীর দুপাশে গড়ে ওঠা বহু গুরুত্বপূর্ণ সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা এখন নদীর পানির ন্যাব্যতা ও মান হ্রাসের কারণে হুমকির মুখে। প্রতিদিন এই নদীপথে যাতায়াত করে প্রায় তিনশতাধিক কার্গো ভ্যাসেল, যেগুলো থেকে নিক্ষিপ্ত হচ্ছে বিপুল পরিমাণ বর্জ্য ও রাসায়নিক তরল, ফলে দিনকে দিন বেড়ে চলেছে দূষণ।
ভৈরব নদের দুই তীরে রয়েছে খুলনা শিপইয়ার্ড, নৌবাহিনীর বিএএএস তিতুমীর, বিআইডব্লিউটিএ, ফরেস্ট ঘাট, নিউজ প্রিন্ট মিল, হার্ডবোর্ড মিল, ৯টি রাষ্ট্রায়ত্ব পাটকল, চারটি পাওয়ার প্ল্যান্ট এবং তিনটি সরকারি তেলের ডিপো। এছাড়াও রয়েছে বহু বেসরকারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান। এই সকল স্থাপনা টিকে থাকা অনেকটাই নির্ভর করে নদীর সুস্থতার ওপর। কিন্তু নদীর বর্তমান অবস্থা উদ্বেগজনক।
নদীতে নিয়মিত বর্জ্য ফেলা হচ্ছে পাটকল ও কার্গো ভ্যাসেলগুলো থেকে। পাশাপাশি, খুলনা সিটি কর্পোরেশনের অন্তত ২০টি বড় ড্রেন সরাসরি মিশছে এই নদীতে, যেখান থেকে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ বাসাবাড়ির বর্জ্য গিয়ে পড়ছে নদীর পানিতে। এক সময় এই নদীর পানি স্থানীয়রা ব্যবহার করলেও, এখন তা ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
এদিকে নদীর দুপাশে গড়ে উঠেছে শতাধিক অবৈধ স্থাপনা। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) এরইমধ্যে ১২৭টি অবৈধ স্থাপনা চিহ্নিত করলেও, এখনো সেগুলো উচ্ছেদ করতে পারেনি। অভিযোগ রয়েছে, বিআইডব্লিউটিএ’র কিছু কর্মকর্তার যোগসাজশে দখলদাররা নদীর জায়গা দখল করে বানিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছে। নদীর ওপর গড়ে তোলা হয়েছে বাঁশের খুঁটি, পিলার ও পাকা স্থাপনা, যা সরাসরি নদীর স্বাভাবিক প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করছে।
এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএ খুলনার উপ-পরিচালক মোহা. মাসুদ পারভেজ বলেন, নদী দখলমুক্ত করতে আমাদের সীমানা নির্ধারণের কাজ চলমান রয়েছে। কাজটি শেষ হলে আমরা উচ্ছেদ অভিযান শুরু করবো।
খুলনা পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক মো. সাদিকুল ইসলাম বলেন, আমরা শহরের মধ্যে এবং বাইরে পরিবেশ দূষণ, নদী দূষণ, পলিথিন দূষণ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করছি। একই সাথে দূষণের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয় নদী বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নদীর এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে শুধুমাত্র পরিবেশ নয়, হুমকির মুখে পড়বে খুলনার অর্থনীতি ও জীবনযাত্রা। এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে এর ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করতে হবে সবাইকে।