নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা
রাজধানীর বাড্ডা এলাকায় রাজউকের মোবাইল কোর্টে অনুমোদিত নকশার ব্যত্যয় ঘটিয়ে নির্মাণকাজ চালানোর অভিযোগে একাধিক ভবনের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন এবং জরিমানার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
২০ মে ২০২৬ তারিখে রাজউকের জোন-৪/২-এর আওতাধীন দক্ষিণ আনন্দনগর, বাড্ডা এলাকায় পরিচালিত এ অভিযানে মোট ৫টি নির্মাণাধীন ভবনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তথ্য বলছে, অভিযানে ৬টি বৈদ্যুতিক মিটার জব্দ করা হয়েছে এবং এক লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।
রাজউকের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহনাজ পারভিন বীথি এবং অথরাইজড অফিসার মো. হাসানুর রেজার যৌথ তত্ত্বাবধানে মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়। এ সময় সহকারী অথরাইজড অফিসার, প্রধান ইমারত পরিদর্শক, ইমারত পরিদর্শক ও অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তথ্য বলছে, অভিযানে যেসব ভবনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সেগুলোর অধিকাংশেই রাজউক অনুমোদিত নকশার ব্যত্যয় করে নির্মাণকাজ চালানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রশ্ন উঠছে—রাজধানীর ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলোতে অনুমোদনবহির্ভূত নির্মাণ কীভাবে ধারাবাহিকভাবে চলতে পারছে এবং তদারকি ব্যবস্থার দুর্বলতা কতটা প্রকট।
রাজউক সূত্র জানায়, দক্ষিণ আনন্দনগরের ভূইয়াবাড়ি এলাকায় অবস্থিত ‘সেবা ইসমাইল হাইটস’-এর ৯ তলা নির্মাণাধীন ভবনে অনুমোদিত নকশার ব্যত্যয় করে নির্মাণকাজ পরিচালনার অভিযোগে ব্যত্যয়কৃত অংশ আংশিক ভেঙে অপসারণ করা হয়। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে ডেসকো প্রতিনিধির নিকট মিটার ও সার্ভিস তার হস্তান্তর করা হয়েছে।
এ ছাড়া মো. আয়নাল হক বেপারী গংয়ের ১০ তলা নির্মাণাধীন ভবনের বিরুদ্ধেও একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে। তথ্য বলছে, ভবনটির ব্যত্যয়কৃত অংশ আংশিক ভেঙে অপসারণ করা হয় এবং বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে মিটার ও সার্ভিস তার ডেসকো প্রতিনিধির কাছে হস্তান্তর করা হয়।
মো. আল-আমিন হাওলাদারের ৯ তলা নির্মাণাধীন ভবনের ক্ষেত্রেও অনুমোদিত নকশা লঙ্ঘনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সূত্র জানায়, ভবনের ব্যত্যয়কৃত অংশ আংশিক ভেঙে অপসারণের পাশাপাশি বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।
একই অভিযানে সায়েম কাজীর ৬ তলা নির্মাণাধীন ভবনের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়। রাজউকের তথ্য অনুযায়ী, অনুমোদিত নকশার ব্যত্যয় ঘটিয়ে নির্মাণকাজ করায় ভবনের অংশবিশেষ অপসারণ করা হয় এবং বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। পাশাপাশি তাকে ১ লাখ টাকা নগদ জরিমানা করা হয়েছে।
মো. মনিরুল ইসলাম গংয়ের ১০ তলা নির্মাণাধীন ভবনের বিরুদ্ধেও একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অভিযোগ উঠছে, ভবনটিতেও অনুমোদিত নকশা অমান্য করে নির্মাণকাজ পরিচালিত হচ্ছিল। পরে ব্যত্যয়কৃত অংশ আংশিক অপসারণ এবং বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়।
অভিযানে আফতাব নগরের ব্লক-সি এলাকায় এম এম ইউসুফ জামিলের আবাসিক ভবনে অ-আবাসিক কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়টিও সামনে আসে। রাজউক বলছে, ওই ভবনে অ-আবাসিক ব্যবহার বন্ধ করা হয়েছে এবং আগামী এক মাসের মধ্যে কার্যক্রম স্থানান্তরের জন্য ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে অঙ্গীকারনামা নেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজধানীতে আবাসিক ভবন বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার এবং অনুমোদনবহির্ভূত নির্মাণ—দুই সমস্যাই দীর্ঘদিন ধরে নগর ব্যবস্থাপনায় চাপ তৈরি করছে। নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, এ ধরনের অনিয়ম শুধু ভবনের নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ায় না, বরং বিদ্যুৎ, পানি, ড্রেনেজ ও সড়ক অবকাঠামোর ওপরও অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে।
প্রশ্ন উঠছে—রাজউকের নিয়মিত অভিযান সত্ত্বেও কেন অনুমোদিত নকশা লঙ্ঘনের ঘটনা কমছে না এবং এসব অনিয়মের পেছনে কোনো প্রভাবশালী গোষ্ঠীর মদদ রয়েছে কি না।
রাজউকের সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ ও প্রটোকল) মো. জোবায়দুল ইসলাম স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, রাজধানীতে নিয়মবহির্ভূত নির্মাণ ও ব্যবহার বন্ধে এ ধরনের মোবাইল কোর্ট কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।