দেশে হামের সংক্রমণ ও মৃত্যু এখনো উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ৩০ মে পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গে ৫৭৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ হিসাবে প্রতি সপ্তাহে গড়ে ৫৭ জনের বেশি শিশুর প্রাণহানি ঘটেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মৃত্যুর ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে পরিস্থিতি এখনো স্থিতিশীল হয়নি।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর–এর তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, সংক্রমণের হার কিছুটা ওঠানামা করলেও হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যুর সংখ্যা উচ্চপর্যায়ে রয়েছে। সর্বশেষ সপ্তাহে (১৮–২৪ মে) ৫৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে হাসপাতালে ভর্তি ছিল ৭৩২ রোগী।
তথ্য বলছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে দেশে হামের প্রকোপ শুরু হয়। মার্চের শেষ সপ্তাহে হাম ও উপসর্গ নিয়ে রোগীর সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৮৩৬। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে তা বেড়ে প্রায় ৮ হাজারে পৌঁছে যায়। মে মাসজুড়েও আক্রান্তের সংখ্যা ৯ থেকে ১০ হাজারের মধ্যে অবস্থান করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো মহামারি বা প্রাদুর্ভাবের প্রকৃত অবস্থা মূল্যায়নে মৃত্যুর হার গুরুত্বপূর্ণ সূচক। নাজমুল হায়দার বলেন, বর্তমানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী পরিস্থিতি স্থিতিশীল হওয়ার কোনো সুস্পষ্ট প্রমাণ নেই।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ২০২৫ সালে নিয়মিত টিকাদানে ব্যাঘাত, শিশুদের পুষ্টিহীনতা এবং ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইন না হওয়াসহ বিভিন্ন কারণে হামের প্রাদুর্ভাব তীব্র হয়েছে।
হামের বিস্তার ঠেকাতে ৫ এপ্রিল থেকে বেশি আক্রান্ত ৩০ উপজেলায় এবং ২০ এপ্রিল থেকে দেশব্যাপী টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ইতোমধ্যে দেশের সব জেলায় হাম ছড়িয়ে পড়েছে।
মুশতাক হোসেন বলেন, শুধু টিকাদান নয়, রোগ ব্যবস্থাপনাও জরুরি। তাঁর মতে, বাড়ি বাড়ি গিয়ে টিকা দেওয়ার কার্যক্রম সীমিত থাকায় এবং চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় ঘাটতির কারণে রোগীর ভর্তির হার ও মৃত্যুর সংখ্যা কমছে না।
এদিকে ঈদের ছুটিতে ব্যাপক জনসমাগম ও ভ্রমণের কারণে সংক্রমণ আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট–এর সাবেক পরিচালক মাহমুদুর রহমান বলেন, সংক্রমণের সময়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়ে ব্যাপক প্রচারণা প্রয়োজন। কিন্তু এ ধরনের কার্যক্রম দৃশ্যমান না হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।