রাজধানীর দক্ষিণখান এলাকার আমতলা ও আইনুসবাগ এলাকায় অনুমোদিত নকশার ব্যত্যয়ে ভবন নির্মাণের অভিযোগে সাতটি নির্মাণাধীন ভবনে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)।
অভিযানে ছয়টি ভবনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে এবং ছয়টি বৈদ্যুতিক মিটার জব্দ করে ডেসকোর প্রতিনিধির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
রাজউকের প্রকাশিত মোবাইল কোর্ট প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৮ মে ২০২৬ তারিখে সাবজোন-২/২ এর আওতায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। মোবাইল কোর্টে নেতৃত্ব দেন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. লিটন সরকার। এ সময় অথরাইজড অফিসার মো. হাসানুজ্জামান, সহকারী অথরাইজড অফিসার, প্রধান ইমারত পরিদর্শক, ইমারত পরিদর্শকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তথ্য বলছে, অভিযানে মোট সাতটি নির্মাণাধীন ভবনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলেও কোনো আর্থিক জরিমানা করা হয়নি। তবে বিভিন্ন ভবনের ব্যত্যয়কৃত অংশ আংশিক অপসারণ, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন এবং বৈদ্যুতিক মিটার জব্দের মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সূত্র জানায়, অভিযুক্ত ভবনগুলোর অধিকাংশের বিরুদ্ধে রাজউক অনুমোদিত নকশার বাইরে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। কয়েকটি ভবনের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলার অতিরিক্ত অংশ আংশিক অপসারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি মালিকপক্ষ ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে লিখিত অঙ্গীকারনামা দিয়ে অবশিষ্ট ব্যত্যয়কৃত অংশ নিজ উদ্যোগে অপসারণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
রাজউকের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আর.এস দাগ ৫৭০৬ (অংশ) এলাকায় আব্দুল হাকিম গং-এর দুটি ভবনে অভিযান চালানো হয়। একটি ভবনের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলার ব্যত্যয়কৃত অংশ আংশিক অপসারণের পাশাপাশি বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন ও মিটার জব্দ করা হয়। অন্য ভবনের দ্বিতীয় তলার ব্যত্যয়কৃত অংশ আংশিক অপসারণ করা হলেও বৈদ্যুতিক মিটার না পাওয়ায় তা জব্দ করা সম্ভব হয়নি।
রাজউকের তথ্য অনুযায়ী, তাহের জামিল গং-এর ভবনের ক্ষেত্রে দ্বিতীয় তলার ব্যত্যয়কৃত অংশ আংশিক অপসারণ করা হয়। একই সঙ্গে চলমান রাস্তা সীমানাপ্রাচীর দিয়ে বন্ধ করে রাখার অভিযোগে সেই প্রাচীর ভেঙে রাস্তা উন্মুক্ত করা হয়। ভবনটির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে বৈদ্যুতিক মিটারও জব্দ করা হয়েছে।
সূত্র জানায়, মাছুদা খানমের নামে থাকা ভবনে অভিযান চালিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন এবং বৈদ্যুতিক মিটার জব্দ করা হয়। তবে অভিযানের সময় মালিকপক্ষের কোনো প্রতিনিধিকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়নি।
এছাড়া সাইফুর রহমান সরকার গং এবং মনজুর মোর্শেদ গং-এর ভবনের দ্বিতীয় তলার ব্যত্যয়কৃত অংশ আংশিক অপসারণের পাশাপাশি বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন ও বৈদ্যুতিক মিটার জব্দ করা হয়েছে। উভয় ক্ষেত্রেই মালিকপক্ষ লিখিত অঙ্গীকারনামা দিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে আইনুসবাগ কলেজ রোড এলাকায় ইঞ্জিনিয়ার কবির হোসেনের নামে থাকা একটি ভবনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন এবং বৈদ্যুতিক মিটার জব্দ করা হয়েছে। তবে অভিযানের সময় সেখানেও মালিকপক্ষের কোনো প্রতিনিধিকে পাওয়া যায়নি বলে রাজউক জানিয়েছে।
তথ্য বলছে, অভিযানে অংশ নেওয়া ভবনগুলোর সবগুলোই নির্মাণাধীন ছিল। কোনো সম্পূর্ণ নির্মিত ভবনের বিরুদ্ধে এদিন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
যদিও রাজউকের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অভিযানে গৃহীত পদক্ষেপ চলমান প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ। অভিযোগগুলোর চূড়ান্ত সত্যতা ও দায় নির্ধারণে পরবর্তী কারিগরি ও প্রশাসনিক যাচাই অব্যাহত থাকবে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।