পলিটেকনিক শিক্ষার্থীদের ক্লাস ও ব্যবহারিক শিক্ষার সংকট নিয়ে অভিযোগের পর শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, “সামনে পরীক্ষা। তাতে তুমিও ফেল, ছয় মাস পর আমিও ফেল—কারও বাঁচার উপায় নেই।”
শনিবার সকালে রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট-এ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, তাদের নিয়মিত ক্লাস হয় না এবং ব্যবহারিক শিক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির অভাব রয়েছে। মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের এক শিক্ষার্থী বলেন, “ঠিকমতো ক্লাস হয় না, প্র্যাকটিক্যাল কাজে আটকে যাই।”
এ বিষয়ে বিভাগের এক শিক্ষক জানান, ১৯৬৩ সালে নির্মিত ভবনে পুরোনো যন্ত্রপাতি দিয়ে ক্লাস ও ল্যাব পরিচালনা করতে হচ্ছে, যা শিক্ষাদানে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আরেক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, অষ্টম সেমিস্টারে শিল্প প্রতিষ্ঠানে পাঠানোর কথা থাকলেও অনেককে সে সুযোগ দেওয়া হয় না। বিশেষ করে রাজধানীর বড় প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণের সুযোগ সীমিত।
এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সরকারের চুক্তি রয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণের সুযোগ দেওয়ার কথা। কেন তা বাস্তবায়ন হচ্ছে না, তা খতিয়ে দেখা হবে।
কারিগরি শিক্ষার উন্নয়নে সরকার কাজ করবে জানিয়ে তিনি বলেন, কোথায় কী সমস্যা রয়েছে তা চিহ্নিত করে প্রকল্প নেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে এক শিক্ষক জানান, পলিটেকনিকের প্রায় ৪৪ শতাংশ শিক্ষার্থী ঝরে পড়ছে। পাশাপাশি ১৯ জন শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে বেতন না পাওয়ার অভিযোগ করেন। এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী তাদের পুনরায় পরীক্ষা নিয়ে আত্তীকরণের আশ্বাস দেন।
অনুষ্ঠানে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল খায়ের মো. আক্কাস আলীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।