মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং লেবানন যুদ্ধবিরতি ইস্যুতে নতুন করে আলোচনায় বসতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। রোববার সুইজারল্যান্ডের বার্গেনস্টকে শুরু হতে যাওয়া বৈঠকের আগে উভয় দেশের প্রতিনিধিরা সেখানে পৌঁছেছেন।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট JD Vance আলোচনায় অংশ নিতে সুইজারল্যান্ডে পৌঁছে বলেছেন, তিনি পারমাণবিক ইস্যু ও লেবাননে যুদ্ধবিরতি—দুই ক্ষেত্রেই অগ্রগতি আশা করছেন।
তবে আলোচনার আগে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে হরমুজ প্রণালী নিয়ে ইরানের অবস্থান। তেহরান জানিয়েছে, লেবাননে ইসরাইলি সামরিক অভিযানের প্রতিক্রিয়ায় তারা আবারও হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিচ্ছে। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ তেল ও গ্যাস পরিবহন রুটগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত এই প্রণালীতে যেকোনো বাধা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
ইরানের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে বলেছে, দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলের ধারাবাহিক হামলার কারণে হরমুজ প্রণালী নৌ চলাচলের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হবে।
অন্যদিকে, মার্কিন সামরিক বাহিনীর মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক কমান্ড জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক জলপথে নিরাপদ নৌ চলাচল এখনো বজায় রয়েছে এবং মার্কিন বাহিনী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump সতর্ক করে বলেছেন, আলোচকরা সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হলে ওয়াশিংটন হরমুজে নিজস্ব শুল্ক আরোপের বিষয় বিবেচনা করতে পারে।
সুইস কর্তৃপক্ষ এবং ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, ইরানি প্রতিনিধিদলে রয়েছেন পার্লামেন্ট স্পিকার Mohammad Bagher Ghalibaf এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী Abbas Araghchi।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেছেন, আলোচনায় তেহরান মূলত পূর্ববর্তী চুক্তির অধীনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের বিষয়টি জোরালোভাবে তুলবে।
মার্কিন পক্ষের হয়ে আলোচনায় প্রযুক্তিগত বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করছেন Jared Kushner এবং Steve Witkoff।
পাকিস্তান ও কাতার মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। ইসলামাবাদ জানিয়েছে, রোববারের বৈঠকে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা হবে, যা ভবিষ্যতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি আলোচনার ভিত্তি তৈরি করতে পারে।
এদিকে দক্ষিণ লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার কথা থাকলেও উভয় পক্ষ একে অপরকে তা লঙ্ঘনের অভিযোগ করছে।
ইসরাইল জানিয়েছে, হিজবুল্লাহর ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তাদের একজন সেনা নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে হিজবুল্লাহ অভিযোগ করেছে, ইসরাইল যুদ্ধবিরতির আড়ালে কৌশলগত এলাকাগুলোতে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করছে।
লেবাননের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার বিভিন্ন এলাকায় ইসরাইলি বিমান হামলায় ৩০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে মৃতের সংখ্যা চার হাজার ছাড়িয়েছে।
পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, দক্ষিণ লেবাননের অনেক বাসিন্দা ঘরে ফিরলেও আবারও পালানোর প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন।
রোববারের সুইজারল্যান্ড বৈঠক তাই শুধু যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কের জন্য নয়, মধ্যপ্রাচ্যের বিস্তৃত সংঘাত নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে হরমুজ প্রণালী এবং লেবানন সীমান্তে নতুন উত্তেজনা আলোচনার সাফল্যকে কতটা প্রভাবিত করবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
মন্তব্য করুন