নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলায় একটি খাল পুনঃখনন প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, প্রকল্পের নির্ধারিত নকশা ও শর্ত উপেক্ষা করে কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে এবং শ্রমিকের পরিবর্তে যান্ত্রিক পদ্ধতিতে কাজ দেখানো হয়েছে।
কাবিলপুর ইউনিয়নের ছমিরমুন্সির হাট থেকে কল্যান্দী বাজার পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার দীর্ঘ এই খাল পুনঃখনন প্রকল্পটি ২০২৫–২৬ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের ইজিপিপি কর্মসূচির আওতায় বাস্তবায়ন করা হয়। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১ কোটি ২ লাখ টাকা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্পের কাজে নির্ধারিত গভীরতা ও প্রস্থ বজায় রাখা হয়নি। অভিযোগ উঠেছে, খননের পরিবর্তে ভেকু (এক্সকাভেটর) মেশিন দিয়ে শুধু খালের দুই পাশ ড্রেসিং করা হয়েছে। এতে প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়েছে বলে দাবি করছেন এলাকাবাসী।
তারা আরও অভিযোগ করেন, নিয়ম অনুযায়ী প্রকল্পে অন্তত ৫০ শতাংশ শ্রমিক ব্যবহার করার কথা থাকলেও বাস্তবে কোনো শ্রমিককে মাঠে কাজ করতে দেখা যায়নি। “পুরো কাজই মেশিন দিয়ে করা হয়েছে”—এমন দাবি স্থানীয় একাধিক বাসিন্দার।
সূত্র জানায়, প্রকল্প শুরুর আগে কয়েকজনের কাছ থেকে কাজ দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি সংগ্রহ করা হয়েছিল। তবে প্রকল্প বাস্তবায়নের পর তাদের কাউকেই কাজে নিয়োগ দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে শ্রমিকের ভুয়া মাস্টার রোল ও ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে অর্থ উত্তোলনের বিষয়েও প্রশ্ন উঠছে।
স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি বলেন, কাগজে-কলমে শ্রমিক দেখানো হলেও বাস্তবে তাদের উপস্থিতি ছিল না। ফলে সরকারি অর্থের বড় অংশ অনিয়মের মাধ্যমে ব্যবহৃত হয়েছে কি না—এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
অন্যদিকে কাবিলপুর ইউনিয়নের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, খালটি সঠিকভাবে পুনঃখনন করা হলে কৃষি সেচ ও পানি নিষ্কাশনে গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা পাওয়া যেত। তবে প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়মের কারণে সেই সুফল থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সেনবাগ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এনামুল হক। তিনি বলেন, প্রকল্পটি এমপি প্রতিনিধির তদারকিতে সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা হয়েছে এবং শ্রমিক ও ভেকু—দুটো ব্যবহারের মাধ্যমে কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।
তবে শ্রমিক নিয়োগ সংক্রান্ত কোনো রেকর্ড বা কাজের ভিডিও প্রমাণ আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি নির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি।
এদিকে প্রকল্প বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া, শ্রমিক নিয়োগ এবং অর্থ ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্তের ঘোষণা পাওয়া যায়নি।