নিয়ামতপুরে যুবদল নেতার নেতৃত্বে সাংবাদিকের ওপর হামলা
নিজস্ব প্রতিবেদক, নওগাঁ
নওগাঁর নিয়ামতপুরে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন চার সাংবাদিক। অভিযোগ উঠেছে, যুবদল নেতা এনামুল হকের নেতৃত্বে স্থানীয় কয়েকজন এ হামলা চালান। এতে ক্যামেরা ভাঙচুর, মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া এবং ধারণ করা ভিডিও ফুটেজ মুছে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার ভাবিচা ইউনিয়নের গোরাই গ্রামে।
জানা গেছে, একটি মসজিদসংক্রান্ত বিষয়ে অভিযোগ খতিয়ে দেখতে সেখানে যান মানবজমিন প্রতিনিধি শাকিল হোসেন, দৈনিক ইত্তেফাকের নিয়ামতপুর প্রতিনিধি ও উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জনি আহমেদ, দৈনিক মুক্ত খবরের স্টাফ রিপোর্টার ও প্রেসক্লাবের সহসভাপতি আলমগীর কবির এবং বাংলাদেশ সমাচার প্রতিনিধি এস আর সাকিল।
তাদের অভিযোগ, যুবদল নেতা এনামুল হক রুবেল, আব্দুল্লাহ, শফিকুলসহ আরও কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে অতর্কিতভাবে তাদের ওপর হামলা চালান। এ সময় ক্যামেরা ও ট্রাইপড ভাঙচুর করা হয়। মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে রেকর্ড করা ফুটেজও মুছে ফেলা হয়।
গোরাই গ্রামের আবুল কাসেম ও ইব্রাহিম খলিল বলেন, সাংবাদিকেরা সাক্ষাৎকার নিচ্ছিলেন। হঠাৎ করেই কয়েকজন তাদের ওপর চড়াও হয়, ধাক্কাধাক্কি করে সরঞ্জাম ভাঙচুর করে এবং মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়।
হামলার শিকার শাকিল হোসেন বলেন, “আমরা শুধু সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়েছিলাম। কিন্তু কোনো কারণ ছাড়াই হামলার শিকার হলাম। ক্যামেরা ভাঙচুর ও ভিডিও মুছে ফেলার ঘটনায় শুধু কাজের ক্ষতিই হয়নি, বরং আমাদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তাও হুমকির মুখে পড়েছে।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় নিয়ামতপুর থানায় লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে।
অভিযুক্ত যুবদল নেতা এনামুল হকের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
নিয়ামতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুর রহমান বলেন, “ঘটনার লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সাংবাদিকরা কি এখন নিরাপদ?
রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বারবার এমন হামলার ঘটনা ঘটলেও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি কেন হচ্ছে না?
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা কি স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের কাছে জিম্মি হয়ে পড়ছে?
সাংবাদিকদের দাবি, দ্রুত তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত না হলে তারা পেশাগত দায়িত্ব পালনে আরও বড় ঝুঁকির মুখে পড়বেন।