সিলেটের ক্রিকেট: সাফল্যের আড়ালে স্থবিরতা
নিজস্ব প্রতিবেদক | সিলেট
জাতীয় ক্রিকেট লিগের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন সিলেট বিভাগ। গত মৌসুমে প্রথমবারের মতো এই শিরোপা জিতেছে তারা। এখানকার বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় এখন জাতীয় দলে খেলছেন। ফলে বাইরে থেকে মনে হতে পারে সিলেটের ক্রিকেট এগিয়ে যাচ্ছে দারুণ গতিতে।
তবে স্থানীয় কোচ ও সংগঠকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে মাঠের কার্যক্রম কিছুটা শ্লথ হয়ে পড়েছে।
জাতীয় লিগে শিরোপা জয়ের পর সিলেটে অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রতিযোগিতামূলক লিগ আয়োজন এবং প্রতিভা সন্ধান কর্মসূচি জোরদার হওয়ার প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু গত এক বছরে তা তেমন গতি পায়নি।
গত বছরের আগস্টে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) বিভাগীয় ও জেলা ক্রীড়া সংস্থা পুনর্গঠন করে। এর পর থেকে কিছু সময় কার্যক্রম স্থবির থাকে। চলতি বছরের জুনে ১১ সদস্যের অ্যাড-হক কমিটি দায়িত্ব নেয়।
সিলেট বিভাগীয় দলের ম্যানেজার আলী ওয়াসিকুজ্জামান চৌধুরী অনি বলেন,
“জাতীয় লিগ জয়ের পর সিলেটে নতুন কোনো বড় প্রতিযোগিতা হয়নি। আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়াম থাকলেও স্থানীয় খেলোয়াড়দের নিয়মিত ব্যবহারের সুযোগ সীমিত। জেলা স্টেডিয়ামও ফুটবল-হকিসহ অন্যান্য খেলাধুলার সঙ্গে ভাগাভাগি করতে হয়।”
তিনি আরও জানান, শহরে একসময় প্রচুর সিমেন্টের উইকেট ছিল, বর্তমানে সেগুলোর সংখ্যা কমে এসেছে।
সিলেটের সবচেয়ে বড় ৫০ ওভারের প্রতিযোগিতা—সিলেট জেলা ক্রিকেট লিগ—গত বছর অনিয়মিত হয়ে পড়ে। সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলায়ও দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত লিগ হয় না।
স্থানীয় সংগঠকরা মনে করছেন, নিয়মিত আঞ্চলিক প্রতিযোগিতা না থাকলে নতুন খেলোয়াড় উঠে আসা কঠিন হয়ে পড়বে।
মাঠের কার্যক্রমের পাশাপাশি এখন আলোচনার বড় অংশ জুড়ে আছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) আসন্ন নির্বাচন। সিলেটের অ্যাড-হক কমিটির কয়েকজন সদস্য ও সাবেক ক্রিকেটার রাজিন সালেহ সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় আছেন।
একজন স্থানীয় সংগঠক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,
“আগে একটি গ্রুপ সক্রিয় ছিল, এখন একাধিক গ্রুপ তৈরি হয়েছে। কাউন্সিলর বাছাই নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন মত রয়েছে।”
আগামী ১ সেপ্টেম্বর সিলেটে বিসিবির বোর্ড সভা অনুষ্ঠিত হবে। ৭ সেপ্টেম্বর জাতীয় লিগের চ্যাম্পিয়ন দলকে সংবর্ধনা দেওয়ার কথা রয়েছে। এ দুটি অনুষ্ঠানেই বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের উপস্থিত থাকার কথা।
অ্যাড-হক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই সফরে তারা সিলেটের ক্রিকেট উন্নয়ন পরিকল্পনার অনুমোদন চেয়ে প্রস্তাব উপস্থাপন করবেন।
তবে পর্যবেক্ষকদের মতে, সিলেটের ক্রিকেটে কাঠামোগত উন্নয়ন ও মাঠের কার্যক্রম সক্রিয় করাই এখন সময়ের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন।