জনগণের ওপর চাপ কমাতে জ্বালানির দাম অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
শুক্রবার জাতীয় সংসদে কার্যপ্রণালী বিধির ৩০০ ধারায় দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করা, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা পুনরুদ্ধার এবং সমতাভিত্তিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে কাজ করছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাব তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, এতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, সরবরাহব্যবস্থা ও বাণিজ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়ছে।
তিনি জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও এলএনজির দাম বেড়ে যাওয়ায় চলতি অর্থবছরের মার্চ থেকে জুন সময়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে অতিরিক্ত ৩৬ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হচ্ছে।
এই চাপ মোকাবিলায় জ্বালানি সাশ্রয়, বিদ্যুৎ ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ, বিকল্প জ্বালানি উৎস নিশ্চিত করা এবং উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে বাড়তি সহায়তা চাওয়ার মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
অর্থমন্ত্রী বলেন, “বৈশ্বিক সংকটের মধ্যেও জনগণের ওপর চাপ কমাতে জ্বালানির দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে সরকার।
বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক খাতে চাপ, বিনিয়োগের ধীরগতি এবং প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতার মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার কাজ করছে।
সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় ৫০ লাখ ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু হয়েছে এবং ধাপে ধাপে আরও পরিবারকে এর আওতায় আনা হবে বলেও জানান তিনি।
এ ছাড়া কৃষক, জেলে ও প্রাণিসম্পদ খামারিদের জন্য কৃষক কার্ড চালুর উদ্যোগ এবং ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফের কথাও উল্লেখ করেন অর্থমন্ত্রী।
কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে আইসিটি খাতের সম্প্রসারণ, অবকাঠামো উন্নয়ন, ব্লু ইকোনমি ও ইকো-ট্যুরিজম খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
রাজস্ব খাতে স্বচ্ছতা ও অটোমেশন নিশ্চিত করে কর আদায় বাড়ানো এবং ২০৩৪ সালের মধ্যে কর-জিডিপি অনুপাত ১৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
ব্যাংকিং খাতে সংস্কার এবং পুঁজিবাজার উন্নয়নে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, আসন্ন বাজেটে স্থিতিশীলতা, স্বচ্ছতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।