নিজস্ব প্রতিবেদন :
ইবিএল–এর মামলা ও এএফসি হেলথের বিপরীতে প্রশ্ন
চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় হাসপাতাল নির্মাণের নামে ২০১৭ সালে নেওয়া ৫০ কোটি টাকার ঋণ পরিশোধ না করায় ইবিএল এএফসি হেলথের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। অভিযোগ — সুদসহ এখন ওই ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১০৩ কোটি টাকায়।
অভিযোগ ও ব্যাংকের দাবি
তথ্য বলছে, ইবিএলের আগ্রাবাদ শাখা ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে এএফসি হেলথকে ৫০ কোটি টাকার ঋণ অনুমোদন করে। সূত্র জানায়, সেই ঋণ অনুমোদনের বিপরীতে পতেঙ্গায় ৩৩ % জমি বন্ধক হিসেবে দেখানো হয়েছিল।
তবে অভিযোগ রয়েছে, হাসপাতালে নির্মাণ কার্যক্রম শুরু হয়নি — ফলে ব্যাংক তার ঋণ ও সুদ আদায় করতে পারছে না।
প্রশ্ন উঠছে
হাসপাতাল নির্মাণের প্রকল্প বাস্তবায়নের নির্ধারিত সময় কোথায় গেল?
জমি বন্ধক দেখিয়ে প্রকল্পের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছিল কি না?
কেন ব্যাংক দীর্ঘ সময় ধরে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি?
সাধারণ শর্ত অনুযায়ী ঋণ পুনরায় পরিশোধযোগ্য অবস্থায় রয়েছে কি না?
ভুক্তভোগীদের কয়েকজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক। তারা বলছে — “সর্বপ্রথম বক্তব্য ছিল, আমাদের এলাকায় এক উন্নত হাসপাতাল হবে, কিন্তু বছরের পর বছর গেছে, কোনো কাজ নেই।”
এগুলি এমন তথ্য যা সামাজিক-আঞ্চলিক বিশৃঙ্খলা ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বাড়াতে পারে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, “ঋণ অনুমোদনের সময় প্রকল্প যাচাই-পরীক্ষা ও বাস্তবায়ন গতিশীলতা গুরুত্ব পুর্ন। যদি প্রকল্পে সময়সাপেক্ষ বিলম্ব হয় বা বন্ধকজমি যথাযথভাবে কাজে না আসে, তাহলে ব্যাংকিং সেক্টরে নন-পারফর্মিং অ্যাসেট (এনপিএ) বাড়ার ঝুঁকি বাড়ে।”
বিভিন্ন তথ্য বলছে, ব্যাংকিংখাতে এনপিএ-র হার বাড়লে সাধারণভাবে সুদের হারও বাড়ে এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
বাংলাদেশ ব্যাংক ও অন্যান্য ব্যাংকিং বিশ্লেষক সংস্থার পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ব্যাংক গ্রহণ করা বন্ধকজমি ঠিকভাবে কাজে লাগছে না এমন খাত বেশ কিছু রয়েছে। এ ধরনের ঘটনা ব্যাংকের লাভে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
ঋণ নিয়েও হাসপাতাল হয়নি—প্রশ্ন উঠছে ব্যাংক নজরদারিতে শিথিলতা ছিল কি না
বন্ধক দেখিয়ে কোটি টাকার ঋণ, প্রকল্পের কোনো অস্তিত্ব নেই—তথ্য বলছে ভিন্ন গল্প
ইবিএল-এর দাবি, ‘৫০ কোটি টাকার ঋণ এখন দ্বিগুণ’; সূত্র জানায়, প্রকল্প ছিল কাগজেই