অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ : Apr 11, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

৫৬২ কোটি টাকার সেচ প্রকল্পে ‘২০০ কোটি লুট’, তদন্তে ভয়াবহ অনিয়ম


ফেনীতে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বাস্তবায়িত একটি সেচ প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। ৫৬২ কোটি টাকার প্রকল্পে অন্তত ২০০ কোটি টাকা লুটপাট হয়েছে বলে জানিয়েছে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটি।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নদী থেকে ফসলি জমিতে পানি সরবরাহের জন্য স্থাপনের কথা থাকা ৮৫০টি সেচ পাম্পের মধ্যে ৩৩৩টির কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। বাকি পাম্পগুলোর বড় অংশ অকার্যকর অথবা নিম্নমানের সরঞ্জাম দিয়ে চালু রাখা হয়েছে।

প্রকল্পটির লক্ষ্য ছিল ১৮ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা পৌঁছে দেওয়া। তবে বাস্তবে সেচ সুবিধা পাচ্ছে মাত্র প্রায় ৩ হাজার হেক্টর জমি—যা লক্ষ্যমাত্রার এক-ষষ্ঠাংশেরও কম।

তদন্তে আরও বলা হয়েছে, প্রকল্পটি বাস্তবে পূর্ণাঙ্গভাবে চালু না করেই কাগজে-কলমে সমাপ্ত দেখানো হয়েছে। এতে বৈদেশিক অর্থের অপচয় হয়েছে এবং সরকারকে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়া হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে “মুহুরী সেচ ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন প্রকল্প” নামে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়। এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক-এর অর্থায়নে ৫৩৪ কিলোমিটার পাইপলাইন স্থাপন এবং ৮৫০টি পাম্প চালুর পরিকল্পনা ছিল। ফেনীর পাঁচটি উপজেলা ও চট্টগ্রামের মীরসরাই এলাকায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কথা ছিল।

তবে তদন্তে উঠে এসেছে, অনেক ক্ষেত্রে পাইপলাইনের অস্তিত্বই নেই এবং নিম্নমানের পাইপ ব্যবহারের কারণে দ্রুত নষ্ট হয়ে গেছে। ডিস্ট্রিবিউশন লাইনের সঠিক নকশা না থাকায় ভূগর্ভস্থ পাইপের অবস্থানও শনাক্ত করা যাচ্ছে না।

অবকাঠামো নির্মাণেও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। নিম্নমানের ইট ও নির্মাণসামগ্রী দিয়ে পাম্পহাউজ, ট্যাংক ও অন্যান্য স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। যন্ত্রাংশ ও বৈদ্যুতিক সংযোগেও নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

তদন্ত কমিটির সদস্য প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ মামুন বলেন, ৩৩৩টি পাম্পের বরাদ্দ অর্থ থেকে প্রকল্প পরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঠিকাদারদের মাধ্যমে বড় অঙ্কের অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। “অন্তত ২০০ কোটি টাকা লোপাট হয়েছে,” বলেন তিনি।

তদন্তে আরও অভিযোগ করা হয়, দরপত্র প্রক্রিয়ায় অনিয়ম করে পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ দেওয়া হয়েছে এবং কাজের তুলনায় অতিরিক্ত বিল প্রদান করে কমিশন নেওয়া হয়েছে। একটি সাবস্টেশন স্থাপনে ২৫–৩০ কোটি টাকার কাজের বিপরীতে ৪৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

যদিও তদন্তে ১৬ জন কর্মকর্তার সংশ্লিষ্টতা উঠে এসেছে, বিভাগীয় তদন্তে তাদের দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে। এতে জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

অভিযুক্ত প্রকল্প পরিচালক রাফিউস সাজ্জাদ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং ব্যক্তিগত বিরোধের ফল।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কৃষিনির্ভর অঞ্চলে এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প ব্যর্থ হওয়ায় শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতিই নয়, খাদ্য উৎপাদনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। তাদের মতে, প্রকল্পটি সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে কৃষি উৎপাদন ও কৃষকের আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারত।

তদন্ত প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনার সুপারিশ করা হয়েছে। অন্যথায় ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম রোধ করা কঠিন হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ভোলা সদর উপজেলার কাচিয়া গ্রামে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু

1

বিএনপি'র বৈঠকে"জয় বাংলা"শ্লোগানে তোলপাড়

2

নির্বাচনের মুখে ভয়ংকর শুটারদের উত্থান

3

কৃষকের ছদ্মবেশে গ্রেপ্তার ডাকাতি মামলার আসামি

4

মধ্যডাঙ্গা মাদ্রাসার ওয়াজ মাহফিল নিয়ে বিরোধ

5

সাত দিনের কর্মসূচি ঘোষণা বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে

6

পূর্বাচল তিন দশকের অচলাবস্থা, ৮ হাজার কোটি টাকার ব্যয়, তবু ক

7

বরিশালে এক নবজাতককে ৩ দিন ধরে পাওয়া যাচ্ছে না, মায়ের বিরুদ্ধ

8

জাতীয় ঐকমত্য কমিশন নিয়ে বিভ্রান্তিকর খবর ‘ডাহা মিথ্যা’ — প্

9

সাতক্ষীরায় সেনাবাহিনীর অভিযানে মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

10

নারায়ণগঞ্জ গণপূর্তে দুর্নীতির অভিযোগ: নির্বাহী প্রকৌশলী হারু

11

অর্থনৈতিক বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা: গভর্নরের সিদ্ধান্তে আস্থা হারাচ

12

সাতক্ষীরা জেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু

13

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ২০ কিলোমিটার যানজট

14

সাতক্ষীরা সীমান্তে ভারতীয় চোরাচালান পণ্য জব্দ

15

চিকিৎসায় নতুন দিগন্ত উম্মোচন করছে আধুনিক ইমেজিং প্রযুক্তি

16

তেল সংকটে কমেছে ট্রিপ, বন্ধের শঙ্কায় হাতিরঝিলের ওয়াটার ট্যাক

17

রাজধানীর রাস্তায় দিনের আলোয় গুলি, তারপর অগ্নিসংযোগ

18

ময়মনসিংহে সড়ক দুর্ঘটনায় স্বামী-স্ত্রী নিহত

19

উপদেষ্টা পদ ছাড়লেও ছাড়েননি সরকারি বাসভবন

20