নথি গায়েব, ১৪৬ কোটি টাকার কর ফাঁকি: ঢাকার কর কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এনবিআরের ব্যবস্থা
বিশেষ প্রতিবেদন |
একটি নথি গায়েবের ঘটনায় সরকারের ১৪৬ কোটিরও বেশি টাকার রাজস্ব ক্ষতিসাধনের অভিযোগ উঠেছে কর প্রশাসনের এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ইতোমধ্যে ঢাকার কর অঞ্চল-৫–এর উপ-কর কমিশনার লিংকন রায়কে সাময়িক বরখাস্ত করেছে। সংশ্লিষ্ট ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তিনজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এনবিআরের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, উপ-কর কমিশনার লিংকন রায় ২০২০-২১ ও ২০২১-২২ করবর্ষে নিষ্পত্তিকৃত আয়কর মামলার নতুন আদেশপত্রে নতুন কর দাবি সৃষ্টি করেন, যার ফলে সরকারের রাজস্ব ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়ায় ১৪৬ কোটি ৫৭ লাখ ৪৬ হাজার ৫৫৩ টাকা।
সূত্র জানায়, অভিযোগ শুধু প্রশাসনিক অনিয়মে সীমাবদ্ধ নয়, এতে সরাসরি দুর্নীতির ঘ্রাণ রয়েছে। আদেশ সংশোধনের নামে মূল নথি ‘গায়েব’ করে করদাতাদের জন্য কর দাবি কমিয়ে আনা হয়। এনবিআর-এর প্রাথমিক তদন্তেও বিষয়টি স্পষ্ট হয় বলে জানা গেছে।
উৎসে কর ব্যবস্থাপনা ইউনিটে দায়িত্ব পালনকালে এসব কার্যক্রম ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে লিংকন রায়ের বিরুদ্ধে। সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮–এর ১২(১) ধারায় তাকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
এ ঘটনায় লিংকন রায়সহ আরও দুই কর্মকর্তা—কর কমিশনার আবু সাঈদ মো. মুস্তাক এবং অতিরিক্ত কর কমিশনার গোলাম কবীরের বিরুদ্ধে মামলা অনুমোদন করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন। দুদকের সহকারী পরিচালক মিনহাজ বিন ইসলাম শিগগিরই মামলাটি দায়ের করবেন বলে জানা গেছে।
তবে
অভিযুক্ত কারো পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্রশ্ন উঠছে—কীভাবে গায়েব হলো সরকারি নথি? প্রশ্ন উঠছে, একটি গুরুত্বপূর্ণ নথি কীভাবে একাধিক কর্মকর্তা এবং প্রশাসনিক স্তর পার হয়ে 'গায়েব' হলো? আদায়যোগ্য ১৪৬ কোটিরও বেশি টাকা কীভাবে নিরবেই কর ছাড়ে পরিণত হলো?
এনবিআর ও দুদকের পদক্ষেপকে ইতিবাচক বললেও বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সাময়িক বরখাস্ত ও মামলার ঘোষণার বাইরে সত্যিকারের জবাবদিহি তখনই সম্ভব, যখন দ্রুত তদন্ত ও বিচার কার্যক্রম নিশ্চিত করা হবে।
কেন এতদিন বিষয়টি ধামাচাপা পড়ে ছিল? শুধুই কি তিনজন কর্মকর্তা দায়ী, নাকি এর সঙ্গে জড়িত রয়েছে বড় কোনো সিন্ডিকেট?
মামলার রায় কী আদৌ দ্রুত এবং দৃশ্যমান হবে?
মন্তব্য করুন