উদয়ের পথে
ফেনীর সদর উপজেলার বালিগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়-এর এক অফিস সহকারীর বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের বোর্ড ফি আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এতে চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে যাওয়া ৯২ জন শিক্ষার্থীর প্রবেশপত্র না আসায় তাদের পরীক্ষা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়ের ৯২ জন শিক্ষার্থীর বোর্ড ফি বাবদ প্রায় ১ লাখ ১৭ হাজার টাকা জমা দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল অফিস সহকারী মিহির চন্দ্র শীলকে। তবে তিনি ওই টাকা ব্যাংকে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে, যখন ফেনীর অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা প্রবেশপত্র পেলেও বালিগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তা পায়নি। পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বোর্ড ফি জমা না হওয়ায় কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রবেশপত্র ইস্যু করা হয়নি।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী ২১ এপ্রিল শুরু হতে যাওয়া এসএসসি পরীক্ষায় এ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে ১৪ জন, মানবিকে ১৬ জন, ব্যবসায় শিক্ষায় ২৫ জন এবং ৩৭ জন অনিয়মিত শিক্ষার্থীসহ মোট ৯২ জন পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা।
বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জরুরি বৈঠক করে কোচিং ফান্ড থেকে প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা তুলে বোর্ড ফি পরিশোধের উদ্যোগ নেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম জানান, অফিস সহকারী মিহির চন্দ্র শীল কয়েকদিন ধরে বোর্ড ফি জমার ভাউচার খুঁজে পাচ্ছেন না বলে জানাচ্ছিলেন। পরে বিষয়টি যাচাই করে দেখা যায়, টাকা জমাই দেওয়া হয়নি। বর্তমানে তার মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় যোগাযোগ করা যাচ্ছে না।
তিনি আরও জানান, তিনি ও সহকারী প্রধান শিক্ষক কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে গিয়ে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের সঙ্গে কথা বলেছেন। জরিমানাসহ ফি জমা দিলে প্রবেশপত্র দেওয়ার আশ্বাস পাওয়া গেছে।
এদিকে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও ফেনী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুলতানা নাসরীন কান্তা বলেন, বিষয়টি আগে তাকে জানানো হয়নি। তিনি বলেন, “প্রবেশপত্র সময়মতো না পেলে এর দায় সংশ্লিষ্টদের ওপর বর্তাবে, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”
এ ঘটনায় অভিযুক্ত অফিস সহকারীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।