রাজধানীর হাতিরঝিল এলাকায় চলাচলকারী ওয়াটার ট্যাক্সি সেবায় জ্বালানি সংকটের কারণে ট্রিপ সংখ্যা অর্ধেকে নেমে এসেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে সেবাটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
ওয়াটার ট্যাক্সি পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পর্যাপ্ত ডিজেল সরবরাহ না থাকায় এখন ‘রেশনিং’ পদ্ধতিতে নৌযান চালানো হচ্ছে। চারটি ট্যাক্সি ইতোমধ্যে বিকল হয়ে রয়েছে এবং বাকি নৌযানগুলো যাত্রীসংখ্যা বিবেচনায় সীমিতভাবে চালানো হচ্ছে।
সরেজমিনে রামপুরা ঘাট এলাকায় দেখা গেছে, আগে যেখানে ১০ মিনিট পরপর ট্যাক্সি ছাড়ত, সেখানে এখন যাত্রীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত যাত্রী না হলে নৌযান ছাড়ছে না, ফলে ভোগান্তি বেড়েছে।
নিয়মিত যাত্রীদের একজন আখতার হোসেন বলেন, আগে দ্রুত সেবা পাওয়া গেলেও এখন আধা ঘণ্টার বেশি অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এতে যাতায়াতে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
শিক্ষার্থী মিলি আক্তার জানান, আগে কয়েকজন যাত্রী হলেই ট্যাক্সি ছাড়ত, এখন বেশি যাত্রী না হলে ছাড়ে না। ফলে নৌযানে বসে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
ওয়াটার ট্যাক্সির জেট ইন-চার্জ মো. জয়নাল আবেদীন বলেন, আগে দৈনিক ৩৫০ থেকে ৪০০ লিটার জ্বালানি পাওয়া গেলেও বর্তমানে তা কমে প্রায় ২০০ লিটারে নেমে এসেছে। রিজার্ভেও পর্যাপ্ত জ্বালানি নেই।
পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান করিম গ্রুপের অপারেশনস ম্যানেজার মোরশেদুল আলম বলেন, ২০১৬ সালে চালু হওয়া এই সেবা দীর্ঘদিন নিরবচ্ছিন্নভাবে চললেও এখন তেলের অভাবে আগের মতো পরিচালনা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি বলেন, “বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে সেবা বন্ধ করা ছাড়া বিকল্প থাকবে না।”
প্রতিদিন প্রায় ১০ থেকে ১২ হাজার যাত্রী ব্যবহার করেন এই সেবা, যা রাজধানীর একটি জনপ্রিয় বিকল্প পরিবহন হিসেবে পরিচিত। তবে জ্বালানি সংকট অব্যাহত থাকলে এই সেবা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন।