স্টাফ রিপোর্টার |
গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (সিভিল) ড. মো. মঈনুল ইসলামকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার। সোমবার (২৭ অক্টোবর) গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
তথ্য বলছে, সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ এর ধারা ৪৫ অনুযায়ী “জনস্বার্থে” তাকে অবসর প্রদান করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ড. মঈনুল ইসলাম বিধি অনুযায়ী অবসরজনিত সব সুবিধা পাবেন।
তবে, প্রশ্ন উঠছে, হঠাৎ এই বাধ্যতামূলক অবসর আদেশের পেছনে কোনো প্রশাসনিক বা অনিয়ম সংক্রান্ত কারণ ছিল কি না। মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে কোনো বিস্তারিত ব্যাখ্যা না দিলেও, সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক কিছু প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনায় অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল।
অন্যদিকে, গণপূর্ত অধিদপ্তরের কিছু কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “ড. মঈনুল ইসলাম ছিলেন পেশাগতভাবে দক্ষ ও দীর্ঘদিন ধরে প্রকৌশল খাতে কাজ করেছেন। তার বিরুদ্ধে কোনো প্রশাসনিক মামলা বা তদন্ত চলমান ছিল কি না, সে বিষয়ে আমরা অবগত নই।
তবে প্রশাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, “জনস্বার্থে অবসর” ধারা সাধারণত ব্যবহার করা হয় যখন সরকারের কাছে কোনো কর্মকর্তা সম্পর্কে ‘বিশ্বাসের ঘাটতি’ বা ‘দায়িত্ব পালনে অসঙ্গতি’ সম্পর্কিত ইঙ্গিত থাকে।
অভিযোগ উঠছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গণপূর্ত অধিদপ্তরে পদোন্নতি ও প্রকল্প বণ্টনে প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য বেড়েছে। এর সঙ্গে কিছু উচ্চপদস্থ প্রকৌশলীর নামও জড়িয়ে পড়েছে।
যদিও এ বিষয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরের কোনো কর্মকর্তা আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করতে রাজি হননি, তথ্য বলছে, মন্ত্রণালয় ভবিষ্যতে আরও কিছু কর্মকর্তার কার্যক্রম পুনর্মূল্যায়নের পরিকল্পনা করছে।
প্রশ্ন রয়ে গেছে, জনস্বার্থে অবসরের এই সিদ্ধান্তটি কি প্রকৃতপক্ষে প্রশাসনিক শুদ্ধি অভিযান, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো গোপন চাপ বা স্বার্থ জড়িত?