ঢাকা, ২৪ জুন: প্রায় ১৪ মাস বিরতির পর দেশে আবার শুরু হচ্ছে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন। আগামী ২৮ জুন দেশজুড়ে একদিনের এই কর্মসূচির মাধ্যমে ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী প্রায় ২ কোটি ৩৫ লাখ শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার।
স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ বলছে, অন্ধত্ব প্রতিরোধ, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং অপুষ্টিজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি কমানোর উদ্দেশ্যে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এই ক্যাম্পেইন পরিচালিত হবে।
জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, মোট ২ কোটি ৩৫ লাখ ১৪ হাজার ৯৭২ শিশুকে ক্যাম্পেইনের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
৬ থেকে ১১ মাস বয়সী ২৮ লাখের বেশি শিশুকে নীল রঙের ক্যাপসুল দেওয়া হবে।
১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী ২ কোটির বেশি শিশুকে লাল রঙের ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।
জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান-এর পরিচালক ডা. মোহাম্মদ ইউনুস আলী জানিয়েছেন, ক্যাম্পেইন বাস্তবায়নে দেশের ১ লাখ ২০ হাজার নিয়মিত ইপিআই কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি লঞ্চঘাট, ফেরিঘাট, রেলস্টেশন ও বাসস্টেশনসহ বিভিন্ন স্থানে ৫০০টি মোবাইল কেন্দ্র স্থাপন করা হবে।
তিনি বলেন, দুর্গম এলাকায় কোনো শিশু যাতে বাদ না পড়ে, সে জন্য ১২টি জেলার ৫৮টি উপজেলার ২৯০টি ইউনিয়নের ৭১৪টি ওয়ার্ডে ক্যাম্পেইনের পর আরও চার দিন অনুসন্ধানমূলক কার্যক্রম চালানো হবে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন রাজধানীর শাহবাগে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ক্যাম্পেইনের সূচনা করবেন।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত এবং প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভিটামিন ‘এ’ শিশুদের দৃষ্টিশক্তি সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, দীর্ঘমেয়াদি ডায়রিয়ার ঝুঁকি কমায় এবং শিশুমৃত্যুর হার হ্রাসে সহায়তা করে।
বাংলাদেশে ১৯৭৩ সালে প্রথমবারের মতো ভিটামিন ‘এ’ কর্মসূচি চালু হয়। পরে এটি জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত হয়ে বর্তমানে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী সব শিশুর অভিভাবকদের ২৮ জুন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে নিকটস্থ কেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে সন্তানদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর আহ্বান জানিয়েছে।
গত বছরের মার্চের পর ক্যাপসুল সংকটের কারণে কর্মসূচিটি বন্ধ ছিল। তাই দীর্ঘ বিরতির পর শুরু হওয়া এবারের ক্যাম্পেইনকে শিশুস্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
মন্তব্য করুন