চীনের দালিয়ান থেকে হাই-স্পিড ট্রেনে রাজধানী বেইজিংয়ে পৌঁছেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখানে তাঁকে এবং তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান-কে লাল গালিচা সংবর্ধনা ও গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়েছে।
বুধবার স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ৩৫ মিনিটে বেইজিংয়ের চাউমিং রেলওয়ে স্টেশন-এ পৌঁছালে চীনা কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনার আয়োজন করে। পরে বিশেষ মোটর শোভাযাত্রায় প্রধানমন্ত্রীকে বেইজিংয়ের রাষ্ট্রীয় অতিথিশালা দিয়াওইউতাই স্টেট গেস্টহাউস-এ নিয়ে যাওয়া হয়। সফরকালীন সময় তিনি ও তাঁর প্রতিনিধিদল সেখানেই অবস্থান করবেন।
এর আগে স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ৫৮ মিনিটে দালিয়ান নর্থ রেলওয়ে স্টেশন থেকে বুলেট ট্রেনে বেইজিংয়ের উদ্দেশে যাত্রা করেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীদের মধ্যে রয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম।
বেইজিংয়ে যাওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রী দালিয়ানে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের গ্রীষ্মকালীন দাভোস সভা ২০২৬-এ অংশ নেন। সেখানে বৈশ্বিক অর্থনীতি, বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও টেকসই উন্নয়ন নিয়ে বিভিন্ন অধিবেশনে বিশ্বনেতা ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
উল্লেখ্য, মালয়েশিয়া সফর শেষে গত সোমবার চীনে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভ করে সরকার গঠনের পর মালয়েশিয়া ও চীন সফর তাঁর প্রথম দ্বিপাক্ষিক বিদেশ সফর হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, চীন বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্যিক অংশীদার ও উন্নয়ন সহযোগী। ফলে বেইজিং সফরে অবকাঠামো, বিনিয়োগ, জ্বালানি, প্রযুক্তি, বাণিজ্য এবং আঞ্চলিক সংযোগ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে এটি নতুন সরকারের পররাষ্ট্রনীতির অগ্রাধিকার সম্পর্কেও একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে।
মন্তব্য করুন