উপজেলা প্রতিনিধি, নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে উন্নয়নকাজের মান নিয়ে বিরোধের জেরে এক উপ-সহকারী প্রকৌশলীকে বাঁশ নিয়ে ধাওয়া করার অভিযোগ উঠেছে এক ঠিকাদারের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে এবং সরকারি কাজের তদারকি ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।
তথ্য বলছে, সোমবার দুপুরে উপজেলার শিবপুর এলাকায় একটি উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শনে গিয়ে কাজের মান নিয়ে আপত্তি তোলেন উপ-সহকারী প্রকৌশলী তরিকুল ইসলাম। এ সময় সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার লোকমান হোসেনের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে ঠিকাদার উত্তেজিত হয়ে একটি বাঁশ নিয়ে ওই কর্মকর্তাকে ধাওয়া করেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে একজন ব্যক্তিকে হাতে বাঁশ নিয়ে দৌড়াতে দেখা যায়। যদিও ভিডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি, তবে ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, কাজের গুণগত মান নিয়ে প্রকৌশলীর আপত্তির পরই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “কাজের মান নিয়ে কথা বলতেই ঠিকাদার ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। পরে ধাওয়া দেওয়ার ঘটনা ঘটে।”
এই ঘটনায় সরকারি কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা ও দায়িত্ব পালনের পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। একজন কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এমন পরিস্থিতির মুখে পড়লে উন্নয়নকাজের তদারকি কতটা নিরপেক্ষভাবে সম্ভব—তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করছেন অনেকে।
নবীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।”
অভিযুক্ত ঠিকাদার লোকমান হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে স্থানীয়ভাবে অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে যুক্ত। তার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে একাধিক প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে বলে সূত্র জানায়। এসব প্রকল্পের কিছু ক্ষেত্রে কাজের মান ও সময়মতো সম্পন্ন না হওয়ার বিষয়ে আগেও প্রশ্ন উঠেছিল বলে দাবি স্থানীয়দের।
তথ্য বলছে, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে ঠিকাদার ও তদারককারী কর্মকর্তাদের মধ্যে সমন্বয়হীনতা বা বিরোধ দেখা দিলে তা প্রকল্পের গুণগত মানে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে কার্যকর তদারকি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি।
একজন অবকাঠামো খাত সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “যেখানে প্রকৌশলীরা কাজের মান নিশ্চিত করবেন, সেখানে তাদের ওপর চাপ বা ভয়ভীতি তৈরি হলে পুরো ব্যবস্থাই ঝুঁকির মুখে পড়ে।”
প্রশ্ন উঠছে, ঘটনাটির পেছনে কেবল তাৎক্ষণিক উত্তেজনা নাকি দীর্ঘদিনের কোনো বিরোধ কাজ করেছে? সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলোর মান ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াও কি তদন্তের আওতায় আসবে?
এ ঘটনায় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হলে তা ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে কতটা কার্যকর হবে—সেদিকেও নজর রাখছেন সংশ্লিষ্টরা।