অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ : Oct 31, 2025 ইং
অনলাইন সংস্করণ

খুলনায় সোনালী ব্যাংকের ৬ কোটি টাকার পাট কেলেঙ্কারি: দুই ব্যবসায়ীর ১০ বছর কারাদণ্ড

অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় খুলনা বিভাগীয় স্পেশাল জজ আদালত দুই ব্যবসায়ী ও এক ব্যাংক কর্মকর্তাকে দোষী সাব্যস্ত করে কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) বিচারক মো. আশরাফুল ইসলাম এই রায় ঘোষণা করেন।


তথ্য বলছে, অভিযুক্ত ব্যবসায়ীরা সোনালী ব্যাংক থেকে প্রতারণার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছিলেন। আদালতের রায়ে মেসার্স আকবর আলী সন্স লিমিটেড–এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রবিউল হক বিশ্বাস ও চেয়ারম্যান মো. শফিউল হক বিশ্বাসকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৬ কোটি ৫৮ লাখ ৬৪ হাজার ৯৬০ টাকার অর্থদণ্ড দেয়া হয়েছে। অনাদায়ে আরও ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে তাদের।

অপরদিকে, দৌলতপুর সোনালী ব্যাংক করপোরেট শাখার সাবেক কর্মকর্তা এস এম ইমদাদুল হককে ৩ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৩ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, রায় ঘোষণার সময় দুই ব্যবসায়ী—রবিউল ও শফিউল—পলাতক ছিলেন। ব্যাংক কর্মকর্তা ইমদাদুল হক আদালতে উপস্থিত থেকে রায় শুনেছেন


দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সমন্বিত জেলা কার্যালয়, খুলনা সূত্রে জানা গেছে, মেসার্স আকবর আলী সন্স লিমিটেডের মালিক পক্ষ ব্যাংক কর্মকর্তার সহায়তায় ৬ কোটি ৫৮ লাখ টাকার পাট বিক্রির অজুহাতে অর্থ আত্মসাৎ করে। অভিযোগ উঠেছে, তারা “অসৎ উদ্দেশ্যে ক্ষমতার অপব্যবহার করে” ব্যাংকের তহবিল আত্মসাৎ করেন


এ ঘটনায় ২০১৫ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর দুদকের উপসহকারী পরিচালক মোহা. মোশাররফ হোসেন বাদী হয়ে চারজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০১৬ সালের ১১ নভেম্বর আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়। অভিযুক্তদের একজন সোহেল হোসেন জোয়াদ্দার পরবর্তীতে মারা যাওয়ায় তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়

আদালত সূত্র জানায়, আত্মসাৎ করা অর্থ ফেরত না আসায় আদালত অভিযুক্ত দুই ব্যবসায়ীর সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের নির্দেশও দেন। রায় ঘোষণার সময় আদালত মন্তব্য করেন,

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক থেকে অর্থ আত্মসাৎ জাতীয় অর্থনীতির জন্য এক ধরনের বিশ্বাসঘাতকতা।

প্রশ্ন উঠছে, এত বড় আর্থিক অনিয়ম ঘটার পরও ব্যাংক তদারকি ও নিরীক্ষা ব্যবস্থায় কেন তা আগে ধরা পড়েনি? তদন্ত সংস্থার একটি সূত্র জানায়, ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা ও ঋণ ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘদিন ধরেই নানা ধরনের ‘অদৃশ্য প্রভাব’ কাজ করছে, যা এই ধরনের জালিয়াতির সুযোগ তৈরি করে।

অর্থনৈতিক অপরাধ বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রায় সরকারি ব্যাংক ব্যবস্থায় জবাবদিহিতার প্রাথমিক এক বার্তা দিলেও, পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার এবং আত্মসাৎ করা অর্থ উদ্ধারের ক্ষেত্রে এখনো অনেক কাজ বাকি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের দুর্বল মনিটরিং এবং প্রভাবশালী ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর সঙ্গে কর্মকর্তাদের যোগসাজশই এই ধরনের অর্থ আত্মসাতের প্রধান কারণ।


রায়ে আদালত দোষীদের সাজা দিলেও, প্রশ্ন রয়ে গেছে—এই অর্থ পুনরুদ্ধার কবে এবং কীভাবে হবে? আর যারা এখনো পলাতক, তাদের আইনের আওতায় আনতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর ভূমিকা কতটা কার্যকর হবে?

তথ্য বলছে, দুর্নীতি দমন কমিশনের তদন্ত বিভাগ এ মামলায় রায় বাস্তবায়নে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

সূত্র জানায়, রায় কার্যকর করতে পলাতক দুই ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হতে পারে।





মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

কলাপাড়ায় আয়কর সচেতনতা সভা

1

খায়রুল কবির খোকন বললেন, ‘তারেক রহমানই সরকার পতন আন্দোলনের মা

2

জয়পুরহাটে ছাত্রদলের ৭ নেতা বহিষ্কার : বিক্ষোভ ও সংবাদ সম্মেল

3

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশের বিরুদ্ধে সাংবাদিককে হয়রানি অভিযোগ

4

বিএনপির চারজন, এনসিপি ও জামায়াতের একজন করে

5

গণ সার্বভৌমত্ব না রাষ্ট্র সার্বভৌমত্ব? ফরহাদ মজহারের প্রশ্নে

6

২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্য, বৈশ্বিক চ

7

সোশ্যাল মিডিয়ায় জুয়া: তরুণ প্রজন্মের নীরব শিকার

8

কেসিসির প্রশাসক হিসেবে নজরুল ইসলাম মঞ্জুর দায়িত্ব গ্রহণ

9

হবিগঞ্জে ৫৩ কেজি গাঁজাসহ ২ জন আটক

10

বিএনপির মহিলা সংরক্ষিত আসনের ফর্ম কিনলেন সাংবাদিক জান্নাতুল

11

সন্ধানপুর ইউনিয়নে পুলিশি অভিযানে জুয়া খেলায় আটক ৮

12

খুলনার লতা ব্রিজ এলাকায় যুবককে গুলি করে পালাল দুর্বৃত্তরা

13

দৌলতদিয়া ঘাটে যাত্রীবাহী বাস নদীতে পড়ার ঘটনায় মির্জা ফখরুলের

14

বাগেরহাটে সন্ত্রাসীদের হামলায় নিহত সাংবাদিক

15

নিত্যপণ্যের দাম কমছে না, তেলের সংকটে চাপে বাজার

16

সোনালী ব্যাংকে আনুগত্য বদলের ঝড়: চট্টগ্রামের এক ইঞ্জিনিয়ার ঘ

17

শ্রীমঙ্গলে ছড়ার ইজারা বাতিলের দাবীতে মানববন্ধন

18

৫ মাসে ৪৩ সন্ত্রাসীকে আটক করেছে কোস্টগার্ড দক্ষিণ জোন

19

৮১৬ কোটি টাকা আত্মসাতে হেমায়েত উল্লাহ

20