জাতীয় সংসদের সাউন্ড সিস্টেম স্থাপনে বড় ধরনের আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কমিউনিকেশন টেকনোলজি লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জাহিদুর রহিম জোয়ারদারকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে তাকে তলব করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। দুদকের সহকারী পরিচালক প্রবীর দাসের নেতৃত্বে একটি বিশেষ তদন্ত দল বিভিন্ন অভিযোগ ও আর্থিক অনিয়মের বিষয়ে তার বক্তব্য নেয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ২০১৮ সালে জাতীয় সংসদে অত্যাধুনিক সাউন্ড সিস্টেম স্থাপনের একটি বড় প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। ওই সময় থেকেই প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম, অতিরিক্ত ব্যয় এবং ক্রয় প্রক্রিয়ায় গরমিলের অভিযোগ ওঠে।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, কমিউনিকেশন টেকনোলজি লিমিটেড ওই প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন করেছিল। অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পের আওতায় যন্ত্রপাতি ক্রয়, সরবরাহ এবং স্থাপনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ব্যয় দেখিয়ে শত শত কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। একই সঙ্গে নিয়মবহির্ভূতভাবে সরকারি অর্থ বিদেশে পাচারের অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পরবর্তী সময়ে দেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও সংসদের বিভিন্ন সংস্কার কাজে বড় ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ জমা পড়ে। এর পরিপ্রেক্ষিতে চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকে সংসদের সাউন্ড সিস্টেম স্থাপন ও সংস্কার সংক্রান্ত নথিপত্র, ব্যয় বিবরণী এবং কাজের মান যাচাইয়ে আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধান শুরু করে দুদক।
তদন্ত-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, মূলত ক্রয় প্রক্রিয়া এবং কারিগরি সরঞ্জাম সরবরাহের ক্ষেত্রে বড় ধরনের গরমিলের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ লোপাট করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই বৃহস্পতিবার অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীর বক্তব্য রেকর্ড করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদের সময় জাহিদুর রহিম জোয়ারদারের কাছে প্রকল্পের ব্যয়, যন্ত্রপাতি কেনার প্রক্রিয়া, বিদেশি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আর্থিক লেনদেন এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের স্বচ্ছতা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয় বলে জানা গেছে।
দুদক জানিয়েছে, সংসদের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিষ্ঠানের প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। অনুসন্ধানের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট আরও কর্মকর্তা, প্রকৌশলী এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদেরও পর্যায়ক্রমে তলব করা হতে পারে।
এ বিষয়ে কমিউনিকেশন টেকনোলজি লিমিটেড বা জাহিদুর রহিম জোয়ারদারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।