অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ : Jan 23, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

নীলফামারী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল: উন্নয়নের নামে দুর্নীতির অভিযোগ

উদয়ের পথে 


নীলফামারী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল: উন্নয়নের নামে অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির অভিযোগ, অনুসন্ধানে দুদক

নীলফামারী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের ভবন নির্মাণ, ওষুধ সরবরাহ এবং সার্বিক স্বাস্থ্যসেবায় অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে অনুসন্ধানের অনুমোদন দেওয়ার পর রংপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয়কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

দুদকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।


দুদক সূত্র জানায়, এর আগে ২০২৪ সালের ২৯ এপ্রিল নীলফামারী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ওষুধসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে রংপুর আঞ্চলিক কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ বেলাল হোসনের নেতৃত্বে একটি অভিযান পরিচালিত হয়। সেই অভিযানে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত ও পর্যবেক্ষণের ধারাবাহিকতায় এবার আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।


তথ্য বলছে, ২০১৭ সালে নীলফামারী সদর জেনারেল হাসপাতালকে ১০০ শয্যা থেকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর অংশ হিসেবে ২০১১ সালে একটি ছয়তলা ভবনের নির্মাণ কাজ শুরু হয়, যা শেষ হয় ২০১৯ সালে।

প্রথমদিকে প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছিল ৩০ কোটি ৯ লাখ টাকা। পরবর্তীতে তা বাড়িয়ে ৩০ কোটি ৬০ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়। তবে ভবন নির্মাণ শেষ হওয়ার দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এর অধিকাংশ অংশ এখনো কার্যকরভাবে চালু হয়নি। প্রশ্ন উঠছে—জনস্বাস্থ্যের জন্য নির্মিত এই ব্যয়বহুল অবকাঠামো কেন কার্যত অচল অবস্থায় পড়ে আছে?


সূত্র জানায়, ভবনটি পুরোপুরি চালুর আগেই দরজা-জানালায় ভাঙন দেখা দিয়েছে, বিভিন্ন স্থানে উঠে গেছে টাইলস। অপারেশন থিয়েটারে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি অযত্নে পড়ে থাকতে দেখা গেছে। কোথাও কোথাও মেঝেতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রী।

এ ধরনের চিত্র সরকারি অর্থে নির্মিত একটি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে কতটা গ্রহণযোগ্য—সে প্রশ্নও উঠছে।



চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও স্বজনদের ভাষ্য, হাসপাতালে নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে একেকটি কক্ষে ১০ থেকে ১২ জন রোগীকে মেঝেতে থাকতে হচ্ছে। পর্যাপ্ত বেড, পরিচ্ছন্নতা ও মৌলিক চিকিৎসা সুবিধার অভাবে রোগীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।


দুদক সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, অনুসন্ধানে ভবন নির্মাণের ব্যয় নির্ধারণ ও বাস্তব কাজের সামঞ্জস্য, ঠিকাদারি কার্যক্রম, ওষুধ ক্রয় ও সরবরাহ প্রক্রিয়া, সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং হাসপাতাল ব্যবস্থাপনায় দায়িত্বপ্রাপ্তদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হবে।

আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য গ্রহণ ও নথিপত্র যাচাই শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।


জনস্বাস্থ্যের জন্য নির্মিত একটি হাসপাতাল যদি বছরের পর বছর অব্যবস্থাপনা ও অবহেলার কারণে কার্যত অচল থাকে, তাহলে তার দায় কার—সে প্রশ্ন উঠছে।
৩০ কোটির বেশি টাকার প্রকল্প, অথচ রোগীদের মেঝেতে চিকিৎসা—এই বৈপরীত্যই এখন দুদকের অনুসন্ধানের কেন্দ্রে।

অনুসন্ধান শেষ হলে বেরিয়ে আসতে পারে আরও তথ্য, যা স্পষ্ট করবে—এটি কেবল প্রশাসনিক ব্যর্থতা, নাকি এর পেছনে রয়েছে গভীরতর অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র।


-

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

পিরোজপুরে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতার ৩১ দফার লিফলেট বিতরণ ও গণস

1

মাগুরায় অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাইসাইকেল বিতরণ

2

কুমিল্লায় রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে ৪৫ জন গ্রেপ্তার

3

হংকংয়ে এশিয়ান টাউনস্কেপ অ্যাওয়ার্ড গ্রহণ করলেন রাজউক চেয়ারম্

4

সুনামগঞ্জে সাংবাদিক ফজলুল হক সেলবর্ষীর ৫৭তম মৃত্যুবার্ষিকী প

5

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি পর্যালোচনা কমিটির মেয়াদ আরো দ

6

করোনাকালে বাড়লেও ক্রমেই কমছে স্টার্টআপে বিনিয়োগ, নীতি সহজ কর

7

টেন্ডার ছাড়াই গাছ কেটে উজাড় রামেবি ক্যাম্পাস এলাকা

8

নুরের ওপর হামলায় জড়িত কেউ রেহাই পাবে না

9

আবাসিক প্লট ও ফ্ল্যাট হস্তান্তরে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের নতুন ন

10

বিআইডব্লিউটিএ পরিচালক আরিফের দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশ হলেও বহা

11

শ্রীবরদীতে জাতীয় কন্যা শিশু দিবস পালিত

12

রাষ্ট্র বলে আর কিছু নাই, এখন আছে কয়েকটা রাজনৈতিক জনগোষ্ঠী: ফ

13

সিংগাইরে র‌্যাবের অভিযানে ১৪ কেজি গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক

14

পাকিস্তানের তিন নদীতে অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধি, পাঞ্জাবে উচ্চ

15

রাজধানীর অবৈধ সীসাবার ব্যবসা!

16

‘লর্ড অব দ্য রিংস’ থেকে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পর্যন্ত— মানবতার বা

17

মোবাইলেই পেশাদার মানের ছবি সম্পাদনা—জেনে নিন সেরা পাঁচটি অ্য

18

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের ব্যয় নিয়ে তোলা অভিযোগ ভিত্তিহীন: কমিশনে

19

ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের এমডির বিরুদ্ধে ৬৭৮ কোটি টাকার মানি লন্ডার

20