অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ : Nov 19, 2025 ইং
অনলাইন সংস্করণ

ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের এমডির বিরুদ্ধে ৬৭৮ কোটি টাকার মানি লন্ডারিং মামলা


 বিশেষ প্রতিনিধি 

স্থানীয় বাজার থেকে চোরাচালানের মাধ্যমে সোনা ও হীরা সংগ্রহ করে প্রায় ৬৭৮ কোটি টাকার মানি লন্ডারিং হয়েছে—এমন অভিযোগে ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দিলীপ কুমার আগরওয়ালার বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। সিআইডির তথ্য বলছে, গতকাল সোমবার গুলশান থানায় এ মামলা করা হয়।

সূত্র জানায়, ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড লিমিটেডের আর্থিক লেনদেন, এলসি, ব্যাংক হিসাব ও নথিপত্র গত বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে পর্যালোচনা শুরু করে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট।
তদন্তে দেখা যায়— ২০০৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি এলসির মাধ্যমে ৩৮ কোটি ৪৭ লাখ টাকার সোনা ও ডায়মন্ড বৈধভাবে আমদানি করে।
অথচ একই সময় ৬৭৮ কোটি টাকার সোনা ও হীরা স্থানীয় বাজার থেকে সংগ্রহ করা হয়।

কিন্তু এসব বিপুল পরিমাণ পণ্যের বৈধ উৎস, সরবরাহকারী বা কাগজপত্র প্রতিষ্ঠানটি দেখাতে ব্যর্থ হয়।

তদন্ত কর্মকর্তাদের মতে, বৈধ নথি না থাকায় সোনা–হীরার এসব লেনদেন চোরাচালানের মাধ্যমে দেশে আনা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান।

প্রশ্ন উঠছে, কীভাবে বৈধ আমদানির তুলনায় প্রায় ১৮ গুণ বেশি পণ্য প্রতিষ্ঠানে লেনদেন হলো—কোনো সরকারি নথি বা উৎস ছাড়াই?
অর্থ পাচারের কাঠামো নিয়ে সন্দেহ
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, দীর্ঘদিন ধরে বিদেশি ব্যবসার আড়ালে অর্থ পাচার ও চোরাকারবারি চালানো হচ্ছিল।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, স্থানীয় বাজার থেকে জোগাড় করা অনাদায়ী সোনা-হীরার হিসাব মিলছে না। তথ্য বলছে, এগুলোকে বৈধ এলসি আমদানির সঙ্গে মিলিয়ে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছিল।
২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর দিলীপ কুমার আগরওয়ালাকে র‍্যাব গ্রেপ্তার করে।

 পরদিন আদালতে তোলা হলে পরপর বিভিন্ন হত্যা মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয় এবং তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়।

নিম্ন ও উচ্চ আদালতে জামিনের আবেদন চলতে থাকে। সব মামলায় জামিন পাওয়ার পর ১ অক্টোবর তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান।
দিলীপ কুমার আগরওয়ালা  দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে পরাজিত হন।

তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক উপকমিটির সদস্য ছিলেন বলেও জানা গেছে একাধিক সূত্র থেকে ।

প্রশ্ন উঠছে, তাঁর রাজনৈতিক সংযোগ কি তদন্ত প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করেছে—নাকি এই মামলা পূর্ববর্তী তদন্তের ধারাবাহিক ফল?

সিআইডি বলছে, ব্যবসার নথি, ব্যাংক লেনদেন, আমদানি-রফতানি তথ্য এবং ব্যক্তিগত সম্পদের উৎস যাচাইয়ে আরও গভীর অনুসন্ধান চলছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্টদের মতে, উৎসহীন ৬৭৮ কোটি টাকার সোনা–হীরা দেশের আর্থিক স্বচ্ছতার ওপর গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।





মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপদেষ্টা পদ ছাড়লেও ছাড়েননি সরকারি বাসভবন

1

তারেক রহমানের নির্দেশে ঐক্যবদ্ধ নোয়াখালী-৫ বিএনপি

2

অবসরে গিয়েও রেহাই নেই, পাঁচ সাবেক অতিরিক্ত সচিবের বিরুদ্ধে দ

3

খুলনায় সরকারি ওএমএসের আটা পাচারকালে গ্রেফতার এক

4

সওজে শত কোটি টাকার সম্পদের অভিযোগ বিভাগীয় হিসাব রক্ষক জাকির

5

পশ্চিমবঙ্গে প্রকাশ্যে পশু জবাই নিষিদ্ধ করল বিজেপি

6

রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন চেয়ে তহবিল সংগ্রহে জোর

7

সাংবাদিক সাখাওয়াত হাফিজের ওপর হামলার প্রতিবাদে কুমিল্লায় মান

8

প্রধানমন্ত্রীর রাষ্ট্রীয় সফর চূড়ান্ত হয়নি, গুজব না ছড়ানোর আহ

9

কুশারিয়া ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৫: টিম সাগরের বিজয় উল্লাস

10

সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির চূড়ান্ত তালিকায় জায়গা পাননি ফারজা

11

"মাঠে রাজনীতি নয়, মানুষের পাশে থাকতে এসেছি" — কর্নেল (অব.) আ

12

আগামী শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে হজ ফ্লাইট : উদ্বোধন করবেন প্র

13

এনডিসিতে ‘ক্যাপস্টোন কোর্স ২০২৬/১’ সমাপ্ত, সনদ বিতরণ করেন সে

14

পাঠ্যপুস্তক ক্রয় প্রক্রিয়ার সময়সীমা হ্রাসের প্রস্তাব অনুমোদন

15

জাহানারার উথ্থানে নারী দলের অস্থিরতা — বিসিবি বসছে তল্লাশি ম

16

খুলনায় কেসিসির পরিচ্ছন্নতা অভিযান অব্যাহত

17

খুলনা নতুন জেলা কারাগার প্রকল্প: উন্নয়নের মুখোশের আড়ালে দুর্

18

সামাজিক উন্নয়ন নিয়ে মতবিনিময়, আকতারুজ্জামান সাক্ষাৎ

19

৩৩ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে না ফেরার দেশে শিক্ষার্থী তাসনিয়া

20