ঢাকার কাকরাইল ও মগবাজার এলাকায় রাজউকের মোবাইল কোর্ট পরিচালনায় নকশার ব্যত্যয়, অগ্নিনিরাপত্তা বাধাগ্রস্ত করা এবং অনুমোদিত নকশা প্রদর্শনে ব্যর্থতার অভিযোগ উঠছে। তথ্য বলছে, সাবজোন-৬/১ এর আওতাধীন এলাকায় পরিচালিত অভিযানে তিনটি ভবনে বিভিন্ন ধরনের অনিয়মের প্রমাণ পেয়েছে কর্তৃপক্ষ। সূত্র জানায়, এসব ঘটনায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন, অবৈধ অংশ অপসারণ এবং দুই লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২১/০৫/২০২৬ খ্রি. (বৃহস্পতিবার) সাবজোন-৬/১ এলাকায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। মোবাইল কোর্ট পরিচালিত ভবন সংখ্যা ছিল ০৩টি। এর মধ্যে নির্মাণাধীন ভবন ছিল ০৩ টি, নির্মিত ভবন ০০ টি, বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে ০১ টি ভবনের এবং জরিমানা আদায় করা হয়েছে ২.০০ লক্ষ টাকা।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জনাব শান্তা রহমান ও অথরাইজড অফিসার জনাব আব্দুল্লাহ আল মামুন এর যৌথ তত্ত্বাবধানে সহকারী অথরাইজড অফিসার, প্রধান ইমারত পরিদর্শক, ইমারত পরিদর্শক ও অন্যান্য কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে সাবজোন- ৬/১, রাজউক এর আওতাধীন কাকরাইল, মগবাজার, ঢাকাতে নির্মানাধীন ভবনের ব্যত্যয় রোধকল্পে নিম্নে উল্লেখিত ০৩ টি ইমারতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়।
তথ্য বলছে, শামসুল আলা-মিন ক্যাপিটাল স্কয়ার, হোল্ডিং-৪৬, কাকরাইল, ঢাকায় ০২ বেইজমেন্ট সহ ০৮ (আট) তলা ভবনের পূর্ব পাশের অগ্নিনিরাপদ সিড়িতে প্রবেশে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে কলাপসিপল গেট স্থাপন করা হয়েছিল। পরে ৭ম ও ৬ষ্ঠ তলার কলাপসিপল গেট অপসারণ করা হয়। ভবনের পিছনের ফায়ারষ্টেয়ারে প্রবেশে সকল ফ্লোরের ইন্টেরিয়র ডিজাইন অপসারণসহ করিডোর ৩০দিনের মধ্যে তৈরি করবেন মর্মে ৩০০ টাকার নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে মুচলেকা দেওয়া হয়। রাজউকের নকশার উল্লিখিত ব্যত্যয় করায় ২.০০লক্ষ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।
অন্যদিকে, জনাব মোঃ কামাল হোসেনের হোল্ডিং-৪৮৮/এ, তালা চাবি গলি, নয়াটোলা, মগবাজার, ঢাকাস্থ ০৪ তলা বিশিষ্ট ভবনে মোবাইল কোর্ট চলাকালে নকশা প্রদর্শন করতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগ উঠছে। সূত্র জানায়, ভবনটির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে ডিপিডিসি প্রতিনিধির নিকট হস্তান্তর করা হয় এবং সামনের বারান্দা আংশিক অপসারণ করা হয়।
এছাড়া জনাব মোঃ হারুনুর রশিদের হোল্ডিং-২০৩, ওয়ারলেস রেলগেট, বড় মগবাজার, ঢাকাস্থ ০৯ (নয়) তলা ভবনে রাস্তা প্রশস্থকরণের জন্য নির্ধারিত জায়গা না ছাড়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তথ্য বলছে, এ ঘটনায় বাউন্ডারি ওয়াল আংশিক অপসারণ করা হয়। বাকি অংশ ভবন মালিক নিজ দায়িত্বে অপসারণ করবেন মর্মে অঙ্গীকারনামা প্রদান করেন।
প্রশ্ন উঠছে, রাজধানীতে অনুমোদিত নকশা উপেক্ষা করে ভবন নির্মাণ, অগ্নিনিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি এবং নির্ধারিত জায়গা না ছাড়ার মতো অনিয়ম কীভাবে দীর্ঘ সময় ধরে চলতে পারছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকলে নগর পরিকল্পনা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হতে পারে।