স্টাফ রিপোর্টার
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ২৩২টি আসনে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। সোমবার (৩ নভেম্বর) রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দলীয় এই ঘোষণার মাধ্যমে বিএনপি তাদের প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করলেও এতে দলের অন্তত ১২ জন সিনিয়র ও পরিচিত নেতার নাম অনুপস্থিত বলে জানা গেছে। এ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, ঘোষিত তালিকায় বিএনপির উপদেষ্টা পরিষদ, ভাইস-চেয়ারম্যান ও যুগ্ম মহাসচিব পর্যায়ের কয়েকজন সিনিয়র নেতার নাম নেই।
এর মধ্যে রয়েছেন—
বরিশাল–২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল,
চট্টগ্রাম–৪ আসনের সাবেক প্রার্থী আসলাম চৌধুরী,
ভাইস-চেয়ারম্যান ড. আসাদুজ্জামান রিপন,
সাবেক সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী,
যুগ্ম মহাসচিব হাবিবুন নবী খান সোহেল,
আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা,
প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু,
ভোলা–৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নাজিম উদ্দিন আলম,
স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সহ-সম্পাদক আব্দুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েল,
এবং সহ-তথ্য বিষয়ক সম্পাদক ও বিএফইউজের মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী।
তবে কেন এই নেতাদের নাম প্রাথমিক তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি— এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি দল।
একাধিক দলীয় সূত্র জানায়, এবারের তালিকা চূড়ান্ত করতে বিএনপির স্থায়ী কমিটি ও মনোনয়ন বোর্ড একাধিক সভা করে প্রার্থীদের রাজনৈতিক অবস্থান, সাংগঠনিক কার্যক্রম এবং জনসমর্থনের ভিত্তিতে যাচাই-বাছাই করেছে। দলীয় একজন কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, এটি এখনো প্রাথমিক তালিকা। কয়েকটি আসন পরবর্তীতে পর্যালোচনার মাধ্যমে পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে।
সূত্র আরও জানায়, বিএনপি এবার তরুণ ও মাঠপর্যায়ের কর্মীভিত্তিক নেতৃত্বকে প্রাধান্য দিচ্ছে— যা নির্বাচনী প্রচারে নতুন গতি আনতে পারে বলে দলীয় মহলে আশা করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিএনপির এই সিদ্ধান্ত দলের অভ্যন্তরে নেতৃত্ব পুনর্বিন্যাসের একটি ইঙ্গিত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. মিজানুর রহমান বলেন,
“বিএনপির এই পদক্ষেপ হয়তো অভ্যন্তরীণ ভারসাম্য রক্ষার কৌশল। নির্বাচনী বাস্তবতায় কিছু নতুন মুখ আনতে চাইছে দল।তবে অন্য পর্যবেক্ষকরা বলছেন, দলীয় যোগাযোগের স্বচ্ছতা এবং প্রার্থীদের নাম প্রকাশের পদ্ধতি নিয়ে আরও খোলামেলা ব্যাখ্যা দিলে বিভ্রান্তি কমতে পারত।
বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, বাকি আসনগুলোতে প্রার্থীদের বিষয়ে আলোচনা চলমান আছে।
তথ্য বলছে, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করতে পারে দলটি। দলীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটি ইতোমধ্যে মনোনয়নপত্র প্রস্তুতি ও নির্বাচনী কৌশল চূড়ান্তকরণের কাজ শুরু করেছে।
রাজনৈতিক মহল বলছে, বিএনপির এই প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা তাদের নির্বাচনী কৌশল ও সংগঠনের অভ্যন্তরীণ পুনর্গঠনের প্রতিফলন হতে পারে। সূত্র জানায়, দলের শীর্ষ নেতৃত্ব নির্বাচনের আগে আরও কয়েক দফা পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করবে।