৫০ বছরের পুরোনো সেতুতে পারাপার ‘মরণফাঁদ’, পাটাতনেই ভরসা ৩০ গ্রামের মানুষের
খাগড়াছড়ির প্রতিনিধি
পাহাড়ি এলাকা খাগড়াছড়ির মহালছড়ি উপজেলার কাপ্তাই পাড়া সেতু যেন এখন মরণফাঁদ। দুই ধারের দেয়াল ধসে গেছে, সরে গেছে সংযোগ সড়কের মাটি। ফলে পুরো সেতুটি এখন ব্যবহারের অনুপযোগী। তবে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই প্রতিদিন এ সেতু দিয়ে পার হচ্ছেন অন্তত ৩০টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ।
দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সেতুটি এখন এতটাই বিপজ্জনক যে, স্থানীয়রা বাধ্য হয়ে নিজেরাই বাঁশ আর কাঠের পাটাতন বসিয়ে কোনোমতে সংযোগ তৈরি করেছেন। এই পাটাতনের উপর দিয়েই প্রতিদিন মানুষ ও অটো-মোটরসাইকেল চলাচল করছে। তবে পণ্য পরিবহন সম্পূর্ণ বন্ধ। বিশেষ করে রোগী, শিশু, গর্ভবতী নারী ও বৃদ্ধদের দুর্ভোগ চরমে।
মুবাছড়ি ইউনিয়নসহ রাঙামাটির নানিয়ারচরের করল্যাছড়ি, সেলোন্যা ও সাবেক্ষং এলাকার অন্তত ৩০টি গ্রামের মানুষ প্রতিদিন এই ঝুঁকিপূর্ণ সেতু পার হচ্ছেন। মুবাছড়ি ইউনিয়নের বাসিন্দা অসিত বরন চাকমা বলেন,
পাঁচ দশকের পুরোনো এই সেতুর নিচের প্লাস্টার খসে পড়েছে, রড-কংক্রিট বেরিয়ে আছে। তারপরও কোনো সংস্কার হয়নি।
স্থানীয়দের ভাষায়, একটি বিকল্প বাইপাস সড়ক তৈরি করা হলেও বর্ষায় কাপ্তাই হ্রদের পানিতে তা ডুবে গেছে। ফলে একমাত্র ভরসা এই ভাঙাচোরা সেতু।
খাগড়াছড়ি এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী তৃপ্তি শংকর চাকমা জানিয়েছেন,গত দুই বছরের বন্যায় সেতুটির সংযোগ সড়ক ধসে গেছে। এটি অনেক পুরোনো সেতু। ইতোমধ্যে পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যে টেন্ডার আহ্বান করা হবে।
খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান রুইতি কারবারী বলেন, কাপ্তাই পাড়া সেতুটি এলাকার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেতুর সংযোগ ধসে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ দুর্ভোগে পড়েছে। দ্রুত নতুন সেতু নির্মাণ জরুরি।
সরকারি দপ্তরগুলো যেখানে 'চূড়ান্ত পর্যায়ে' টেন্ডারের কথা বলছে, সেখানে স্থানীয়দের জীবন চলছে বাঁশের পাটাতনের ওপর। দুর্ঘটনা ঘটার আগেই জরুরি ভিত্তিতে সেতুটি পুনর্নির্মাণের দাবি জোরালো হচ্ছে। সেতুটি শুধুই একটি অবকাঠামো নয়, এটি ৩০টি গ্রামের জীবন-জীবিকার একমাত্র সেতুবন্ধন।