সখিপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি
টাঙ্গাইলের সখিপুর উপজেলার কালমেঘা বিট এলাকায় সংরক্ষিত বন থেকে সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে গাছ কেটে পাচারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাতের আঁধারে বনের বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে ট্রাক ও ট্রাক্টরযোগে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তবে এসব ঘটনায় বন বিভাগের নজরদারি ও কার্যকর পদক্ষেপ যথেষ্ট নয় বলেও অভিযোগ তাদের।
স্থানীয়দের ভাষ্য, কালমেঘা বিট অফিস, যা হতেয়া রেঞ্জের আওতাধীন, সেই এলাকার সংরক্ষিত বনেই এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঘটছে। প্রায়ই গভীর রাতে করাতের শব্দ শোনা যায় এবং ভোর হওয়ার আগেই কাটা গাছ সরিয়ে নেওয়া হয়। বিষয়টি একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও বন উজাড় বন্ধে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি বলে দাবি করেন তারা।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, রনি আহমেদ, হারুন, বসু, তোফা মোল্লা, রিপন আহমেদ ও পান্নাসহ কয়েকজন দীর্ঘদিন ধরে বন থেকে গাছ কেটে পাচারের সঙ্গে জড়িত। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ ছাড়া স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, সংরক্ষিত বনভূমির মধ্যে বা বন বিভাগের অনুমতি ছাড়া কয়েকটি স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, ছোটপাথার এলাকায় তায়েজ উদ্দিনের ছেলে রেজাউল করিম হাসু একটি দালান নির্মাণ করেছেন। একই এলাকায় মৃত আব্দুল করিমের ছেলে আমির হামজা ২৮ হাত দৈর্ঘ্যের একটি পোলট্রি ফার্ম, আইজুদ্দিনের ছেলে বাবুল ২২ হাতের একটি ঘর, রাজার ছেলে জয়নুদ্দিন ২৮ হাতের একটি ঘর এবং লেবুর ছেলে হারুন ২৮ হাতের একটি পাকা ঘর নির্মাণ করেছেন। তবে এসব স্থাপনা অবৈধ কি না, সে বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, এভাবে বন উজাড় চলতে থাকলে পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও বনাঞ্চলের প্রাকৃতিক ভারসাম্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তারা বনদস্যুদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং নিয়মিত টহল জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে কালমেঘা বিট কর্মকর্তা জাকিরুল ইসলাম বলেন, "কয়েকদিন আগেও কিছু অবৈধভাবে কাটা গাছ জব্দ করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এলাকাবাসী সহযোগিতা করলে বনদস্যুদের বিরুদ্ধে আরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।"
হতেয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা নুর আলম হাফিজ বলেন, "অভিযোগের বিষয়গুলো সরেজমিন পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"