স্পোর্টস ডেস্ক
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২-এ আজ মুখোমুখি হচ্ছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল ও এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী দল জাপান। কাগজে-কলমে ব্রাজিল এগিয়ে থাকলেও সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স, সর্বশেষ মুখোমুখি লড়াই এবং জাপানের সংগঠিত ফুটবল ম্যাচটিকে নকআউট পর্বের অন্যতম আকর্ষণীয় দ্বৈরথে পরিণত করেছে।
দুই দলের মুখোমুখি ইতিহাসে এখন পর্যন্ত ১৪টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে ব্রাজিল জিতেছে ১১টিতে, দুটি ম্যাচ ড্র হয়েছে এবং জাপান জয় পেয়েছে একটি ম্যাচে। তবে সেই একমাত্র জয়ই এসেছে সর্বশেষ দেখায়, ২০২৫ সালের অক্টোবরের আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে। ওই ম্যাচে ব্রাজিল ২-০ গোলে এগিয়ে থেকেও দ্বিতীয়ার্ধে তিন গোল হজম করে ৩-২ ব্যবধানে হেরে যায়। ব্রাজিলের বিপক্ষে সেটিই ছিল জাপানের প্রথম জয়।
চলতি বিশ্বকাপে ব্রাজিল গ্রুপ ‘সি’-এর চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নকআউটে উঠেছে। মরক্কোর সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র দিয়ে অভিযান শুরু করলেও পরবর্তী দুই ম্যাচে হাইতি ও স্কটল্যান্ডকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়ে আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছে কার্লো আনচেলত্তির দল।
অন্যদিকে জাপান গ্রুপ ‘এফ’-এর রানার্স-আপ হিসেবে শেষ ষোলোতে জায়গা করে নিয়েছে। তারা নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করে, তিউনিসিয়াকে ৪-০ ব্যবধানে হারায় এবং সুইডেনের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে অপরাজিত অবস্থায় নকআউটে পৌঁছায়।
কৌশলগতভাবে দুই দলের খেলার ধরনে রয়েছে স্পষ্ট পার্থক্য। ব্রাজিল ৪-৩-৩ ফরমেশনে আক্রমণাত্মক উইং প্লে এবং ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের ওপর নির্ভর করে। ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, রদ্রিগো ও নেইমারকে ঘিরেই তাদের আক্রমণভাগ সাজানো। তবে অতিরিক্ত আক্রমণাত্মক খেলায় রক্ষণভাগে ফাঁকা জায়গা তৈরি হওয়াকে ব্রাজিলের অন্যতম দুর্বলতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
জাপানের মূল শক্তি দলগত শৃঙ্খলা, কমপ্যাক্ট ডিফেন্স এবং দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাক। মাঝমাঠে দাইচি কামাদা ও তাকুমি মিনামিনো বল দখল করে দ্রুত আক্রমণে ওঠার চেষ্টা করেন। স্ট্রাইকার আয়াসে উয়েদা এবং উইঙ্গার কেইতো নাকামুরার গতিও ব্রাজিলের রক্ষণভাগের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।
ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের দিক থেকে ব্রাজিলের ভিনিসিয়ুস জুনিয়র এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টে চার গোল করে দারুণ ছন্দে রয়েছেন। ইনজুরি কাটিয়ে দলে ফেরা নেইমারের অভিজ্ঞতাও নকআউট পর্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে ইনজুরির কারণে রাফিনহাকে পাচ্ছে না ব্রাজিল।
জাপানের হয়ে নজরে থাকবেন আয়াসে উয়েদা, যিনি গ্রুপ পর্বে দুই গোল করেছেন এবং গত বছরের প্রীতি ম্যাচে ব্রাজিলের বিপক্ষে জয়সূচক গোলও করেছিলেন। গোলরক্ষক জিয়ন সুজুকির পারফরম্যান্সও দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে ইনজুরির কারণে তাকেফুসা কুবোর খেলার সম্ভাবনা অনিশ্চিত বলে জানা গেছে।
পরিসংখ্যান বলছে, মুখোমুখি ১৪ ম্যাচে ব্রাজিল ৩৭টি এবং জাপান ৮টি গোল করেছে। সবচেয়ে বড় ব্যবধানে জয় এসেছে ১৯৯৫ সালে, যখন ব্রাজিল ৫-১ গোলে জাপানকে হারিয়েছিল। বিশ্বকাপের মঞ্চে দুই দলের একমাত্র দেখায় ২০০৬ সালে ব্রাজিল ৪-১ ব্যবধানে জয় পেয়েছিল।
ডেটা অ্যানালিটিক্স ও সুপারকম্পিউটারের পূর্বাভাস অনুযায়ী, নির্ধারিত ৯০ মিনিটে ব্রাজিলের জয়ের সম্ভাবনা ৫৭ দশমিক ৭ শতাংশ, জাপানের জয়ের সম্ভাবনা ১৮ শতাংশ এবং ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে গড়ানোর সম্ভাবনা ২৪ দশমিক ৩ শতাংশ।
ইতিহাস, অভিজ্ঞতা ও স্কোয়াডের গভীরতায় ব্রাজিলকে এগিয়ে রাখা হলেও জাপানের সাম্প্রতিক ফর্ম, শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণ এবং দ্রুত পাল্টা আক্রমণ ম্যাচটিকে অনিশ্চয়তায় ভরিয়ে তুলেছে। ফলে নকআউট পর্বের এই লড়াইয়ে সামান্য ভুলও যে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দিতে পারে, সে ব্যাপারে একমত ফুটবল বিশ্লেষকেরা।