দেওয়ানগঞ্জ (জামালপুর) প্রতিনিধি
জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা মো. সাজ্জাতুল হককে জালিয়াতি, ঘুষ গ্রহণ ও নানা অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। তিনি উপজেলার চিকাজানী ইউনিয়নে কর্মরত ছিলেন। একই সঙ্গে তাকে কোনো ধরনের সরকারি আর্থিক সুবিধা বা বকেয়া প্রদান না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার ফারাহ শাম্মী (এনডিসি) স্বাক্ষরিত ২৯ এপ্রিলের এক অফিস আদেশে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সাজ্জাতুল হক জামালপুর পৌর ভূমি অফিসে কর্মরত থাকাকালে ২০২৩ সালে শিহাবুল আরিফ (সহকারী কমিশনার-ভূমি), নূর-এ-আহম্মেদ এবং ইমান আলী-এর স্বাক্ষর জাল করে ভুয়া নামজারি, ডি.সি.আর-এর মাধ্যমে হোল্ডিং খোলাসহ বিভিন্ন অনিয়মে জড়িত ছিলেন। পাশাপাশি সেবা গ্রহীতাদের কাছ থেকে প্রকাশ্যে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগও ওঠে। এ নিয়ে সে সময় গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল।
অভিযোগের ভিত্তিতে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ৩ (খ) অনুযায়ী ‘অসদাচরণ’ এবং ৩ (ঘ) অনুযায়ী ‘দুর্নীতি পরায়ণতা’র অভিযোগে জেলা প্রশাসক, জামালপুর কর্তৃক বিভাগীয় মামলা (নং-০৪/২০২৪) রুজু করা হয়। পরবর্তীতে তার ব্যক্তিগত শুনানি সন্তোষজনক না হওয়ায় একই বিধিমালার ৭ (২) (ঘ) ধারা অনুযায়ী তদন্তের জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার শাখার সহকারী পরিচালক চৌধুরী বিশ্বনাথ আনন্দ-কে তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় তদন্তকারী কর্মকর্তা গত বছরের ৭ ডিসেম্বর জেলা প্রশাসকের কাছে প্রতিবেদন জমা দেন। পরে ১২ জানুয়ারি জেলা প্রশাসক তার বিরুদ্ধে গুরুদণ্ড প্রদানের সুপারিশ করে বিভাগীয় কমিশনার বরাবর প্রস্তাব পাঠান। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ৪ (৩) (গ) ধারা অনুযায়ী তাকে ‘চাকরি হতে অপসারণ’ সূচক গুরুদণ্ড দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সাজ্জাতুল হকের মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
এদিকে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ জহুরুল হোসেন বলেন, “বিভাগীয় কমিশনার অফিস থেকে ওই কর্মকর্তার বরখাস্তের আদেশ পেয়েছি। অফিস খোলার পর তার কাছ থেকে ফাইলপত্র বুঝে নিয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।