উদয়ের পথে
বেআইনিভাবে কল টার্মিনেশন রেট ও রাজস্ব ভাগাভাগি পরিবর্তনের অভিযোগ, রাষ্ট্রের ৯ হাজার ১০৭ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি।
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বুধবার (৪ ডিসেম্বর) বিটিআরসির সাবেক তিন চেয়ারম্যানসহ ছয় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করেছে। অভিযোগ, আন্তর্জাতিক গেটওয়ে (আইজিডব্লিউ) অপারেটরদের আর্থিক সুবিধা দিতে কল টার্মিনেশন রেট এবং রাজস্ব ভাগাভাগি বেআইনিভাবে পরিবর্তন করে রাষ্ট্রকে প্রায় ৯ হাজার ১০৭ কোটি টাকা ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে।
দুদকের উপপরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম জানিয়েছেন, সংস্থার পরিচালক মো. জালাল উদ্দীন আহমেদ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন।
মামলায় অভিযুক্ত সাবেক চেয়ারম্যানরা হলেন—সুনীল কান্তি বোস,শাহজাহান মাহমুদ,মো. জহুরুল হক,
জহুরুল হক প্রথমে কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন, পরে চেয়ারম্যান হিসেবে নিযুক্ত হন। এছাড়া তিনজন ছাড়াও মামলায় অভিযুক্ত হয়েছেন—অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আহসান হাবিব খান, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান,মো. রেজাউল কাদের, সাবেক কমিশনার,মো. আমিনুল হাসান, সাবেক কমিশনার।
দুদকের এজাহারে বলা হয়েছে, ২০১৫ সালের অক্টোবর থেকে ২০১৮ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত তারা সরকারের অনুমোদন ছাড়া টার্মিনেশন রেট এবং রাজস্ব ভাগাভাগির হার পরিবর্তন করেছেন। এর ফলে আইজিডব্লিউ অপারেটররা আর্থিকভাবে সুবিধা পেয়েছে এবং সরকারের রাজস্ব আয় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
২০১৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে ২০১৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর: পরীক্ষামূলক হার,টার্মিনেশন রেট: ০.০৩ ডলার
বিটিআরসির শেয়ার: ৫১.৭৫%,আইজিডব্লিউ শেয়ার: ১৩.২৫%,পরবর্তী ২৮ মাস (অক্টোবর ২০১৫ – জানুয়ারি ২০১৮): বেআইনিভাবে নিম্নরূপ বহাল রাখা হয়—টার্মিনেশন রেট: ০.০১৫ ডলার,সরকারের শেয়ার: ৪০%,আইজিডব্লিউ শেয়ার: ২০% দুদকের ভাষ্য, “পরীক্ষামূলক হার অব্যাহত রাখার উদ্দেশ্য ছিল আইজিডব্লিউ অপারেটরদের আর্থিক সুবিধা দেওয়া।
রাজস্ব ভাগাভাগি কমানোর কারণে: ৩৮৩ কোটি ৭৩ লাখ টাকা,কল রেট কমানোর কারণে: ২,৯৪১ কোটি ৯৯ লাখ টাকা।বিদেশি মুদ্রা দেশে না আনার কারণে: ৫,৬৮৫ কোটি টাকা।মোট ক্ষতি: প্রায় ৯,১০৭ কোটি টাকা।
দুদক বলছে, কমিশনারদের এই কার্যক্রম ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অপরাধজনক বিশ্বাসভঙ্গ হিসেবে চিহ্নিত। মামলার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র জব্দের জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হবে।