অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ : Dec 11, 2025 ইং
অনলাইন সংস্করণ

চট্টগ্রামে ব্যাংক খাতে সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকার জালিয়াতি


বছরের পর বছর ধরে ‘অদৃশ্য লেনদেন’, ভুয়া প্রতিষ্ঠান ও অভ্যন্তরীণ নেটওয়ার্কের সহযোগিতায় লুটপাট


স্টাফ রিপোর্টার
চট্টগ্রাম

চট্টগ্রামের সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকগুলোর ভেতরে দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা একাধিক জালিয়াতি চক্রের মাধ্যমে প্রায় সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকা লুট হয়েছে—এমন অভিযোগের ভিত্তিতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) একাধিক মামলায় তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
অভিযোগ বলছে, ভুয়া কোম্পানি, নামধারী ব্যক্তি এবং “অদৃশ্য লেনদেন” দেখিয়ে বছরের পর বছর ধরে এসব চক্র ব্যাংক কর্মকর্তা, রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তি ও ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগসাজশে বিপুল এই অর্থ নিজস্ব নেটওয়ার্কে সরিয়ে নেয়।

দুদকের চট্টগ্রাম কার্যালয়ের তথ্যানুসারে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত মোট ৪৩টি মামলা হয়েছে, যার মধ্যে ১৯টি ব্যাংক অর্থ আত্মসাৎ সংক্রান্ত। এসব মামলায় লুট হওয়া টাকার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৬১৮ কোটি ৬০ লাখ ৭০ হাজার ৩৫৫ টাকা।
এই মামলাগুলোতে মোট ৪২৬ জনকে আসামি করা হয়েছে।

প্রশ্ন উঠছে—চট্টগ্রামের ব্যাংকিং খাতের অভ্যন্তরে এমন বিশাল পরিমাণ অর্থ লোপাট কীভাবে এত দীর্ঘ সময় ধরেও অদৃশ্য থেকে গেল? এবং কেন এসব ব্যাংকে কার্যকর তদারকি ব্যবস্থা কাজ করেনি?


দুদকের তদন্তের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ একাধিক কর্মকর্তা—সূত্র জানায়, অভিযুক্তরা মূলত তিনটি পদ্ধতিতে অর্থ আত্মসাৎ করতো—ভুয়া প্রতিষ্ঠান তৈরি করে ঋণ অনুমোদন।নামধারী ব্যক্তি, প্রকৃত ঠিকানা ছাড়া কাগজে-কলমে কোম্পানি, কিংবা পূর্বে নিষ্ক্রিয় থাকা ব্যবসায়িক ট্রেড লাইসেন্স ব্যবহার করে বড় অঙ্কের ঋণ নেওয়া হতো।


দুদকের কর্মকর্তারা জানান, ব্যাংকের ভেতরের কয়েকটি ‘বিশেষ ডেস্ক’ ছিল, যেখানে যথাযথ যাচাই ছাড়াই দ্রুত ঋণ অনুমোদন করা হতো। একজন তদন্ত কর্মকর্তা বলেন,প্রাথমিক নথি জমা দেওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ৫০ থেকে ৩০০ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ ছাড় হয়েছে—এ ধরনের বেশ কয়েকটি উদাহরণ পাওয়া গেছে।



নানান খাত—পণ্য আমদানি, জাহাজ ভাড়া, ইলেকট্রনিকস, খাদ্যশস্য—এসব শিরোনামে বিশাল অঙ্কের লেনদেন দেখানো হলেও বাস্তবে সেই ব্যবসা ছিল না।তথ্য বলছে, অনেক ক্ষেত্রে একই প্রকল্পে একই দিন দু’টি ভিন্ন ব্যাংক থেকে “ওভারল্যাপিং ঋণ” নেওয়া হয়েছে—যা ব্যাংকিং নিয়মের স্পষ্ট লঙ্ঘন।



চট্টগ্রামের নিম্নোক্ত নয়টি ব্যাংকে জালিয়াতির অভিযোগ পাওয়া গেছে—ইসলামী ব্যাংক,ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি),প্রাইম ব্যাংক,গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক,পূবালী ব্যাংক,জনতা ব্যাংক, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক,অগ্রণী ব্যাংক,ফাস্ট সিকিউরিটি ব্যাংক।এর মধ্যে শুধুমাত্র জনতা ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক ও ইউসিবি—এই তিনটি ব্যাংকেই লুট হওয়া অর্থের পরিমাণ ৫ হাজার ৪৯২ কোটি টাকা।


দুদকের মামলার নথি ও বিভিন্ন জড়িত পক্ষের বক্তব্য থেকে দেখা যায়, বেশ কয়েকটি প্রভাবশালী ব্যবসায়ী পরিবার এবং কিছু সাবেক মন্ত্রী–রাজনীতিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে।
এর মধ্যে—এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইফুল আলম মাসুদ ও তাঁর পরিবার।সাবেক মন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ ও তাঁর পরিবার।সাদ মুছা গ্রুপের মো. মহসিন ও তাঁর পরিবার।নূরজাহান গ্রুপের জহির আহম্মেদ রতন ও তাঁর পরিবার।


অভিযোগ বলছে, এদের মধ্যে অনেকে ব্যাংকের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রেখে প্রভাব ব্যবহার করে ঋণ অনুমোদন করতেন।

এ ছাড়া ২৪২ জন সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা—চেয়ারম্যান, পরিচালক, উপমহাব্যবস্থাপক, শাখা ব্যবস্থাপক এবং ক্যাশ অফিসার পর্যন্ত—মামলার আওতায় এসেছেন।
দুদকের মোট মামলার মধ্যে ৯ জন সাবেক মন্ত্রী, সাংসদ, পৌরমেয়র এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে।

ভুক্তভোগীদের বয়ান: “ব্যাংকে গেলে বলে—ফাইল হারিয়ে গেছে” চট্টগ্রামের পাহাড়তলী, বাকলিয়া, চান্দগাঁও এলাকায় কয়েকজন মাঝারি উদ্যোক্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অনেকেই প্রকৃত প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও ঋণ পাননি—যখন একই সময়ে ভুয়া প্রতিষ্ঠান বিপুল ঋণ পেয়েছে।

পাহাড়তলীর গার্মেন্টস খাতের একজন উদ্যোক্তা (নামের পরিচয় গোপন রাখার অনুরোধ) বলেন—২০২৪ সালে আমি ৮ কোটি টাকার ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল ঋণের জন্য আবেদন করি। ছয় মাস ঘোরানোর পর আমাকে বলা হয় আমার ‘ফাইল হারিয়ে গেছে’। পরে জানতে পারি, একই শাখা থেকে একদিনেই ৫০ কোটি টাকা ঋণ পেয়েছে এমন একটি প্রতিষ্ঠান—যার অফিসই নেই। চান্দগাঁওয়ের আরেক উদ্যোক্তা বলেন—আমরা যারা সত্যিকার অর্থে ব্যবসা করি, তাদের ঋণ দেয় না। অথচ যাদের ‘চাহিদা পর্যন্ত’ নেই, তারা শত কোটি টাকা পাছেন। এটা দেশের অর্থনীতির জন্য ভয়ানক।


চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ও অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম বলেন—এ ধরনের জালিয়াতি কোনো একক ঘটনার ফল নয়। এটি বহু বছরের কাঠামোগত দুর্বলতা, পর্যবেক্ষণের অভাব এবং ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা ভেঙে পড়ার প্রতিফলন।

তিনি আরও বলেন— মুদ্রাস্ফীতি বেড়েছে, লুট হওয়া অর্থের কোনো হিসাব না থাকায় বাজারে টাকার প্রবাহ বেড়ে যায়, কিন্তু উৎপাদন বাড়ে না।ফলে পণ্যমূল্য বাড়তে থাকে।যারা লুট করেছে, তারাই সহজে ঋণ পেয়েছে।যাদের সত্যিকার প্রয়োজন, তারা ঋণ পাননি।অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে।


অর্থ ফেরত না আসায় ব্যালান্সশিট দুর্বল হয়েছে, যা আমানতকারীদের জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে।অধ্যাপক সাইফুল ইসলামের মতে—লুট হওয়া এই বিপুল অর্থ ফেরত আনা জরুরি। পাশাপাশি ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া আধুনিক ও স্বচ্ছ না করলে ভবিষ্যতে আরও বড় ঝুঁকি তৈরি হবে।


দুদকের তদন্ত: কী কী উঠে আসছে?

দুদকের কর্মকর্তারা জানান—ব্যাংক কর্মকর্তাদের সক্রিয় ভূমিকা।অভ্যন্তরীণ কর্মকর্তাদের সরাসরি সহযোগিতা ছাড়া এত বড় অঙ্ক লোপাট সম্ভব নয়।নথি জাল, অতিরঞ্জিত মূল্যায়ন।সম্পত্তির অতিমূল্যায়ন।জাল ব্যাংক গ্যারান্টি।আমদানি দেখিয়ে মালামাল না আনা।এক প্রতিষ্ঠানের নামে ৪–৫টি শাখায় পৃথক ঋণ।


কিছু ক্ষেত্রে তদন্তকারী কর্মকর্তাদের ওপর নানান চাপ এসেছে—এমন অভিযোগ দুদকের ভেতর থেকেই শোনা গেছে। অর্থমানের গন্তব্য রহস্যজনক,অভিযোগ বলছে, বহু ক্ষেত্রে অর্থ দেশের বাইরে পাচার হয়েছে। তবে দুদক এই বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।

অর্থনীতি ও দুর্নীতি বিষয়ে গবেষকরা বলছেন—ব্যাংকের পরিচালনায় দুর্বলতা, ব্যাংকের বোর্ড ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের মধ্যে স্বার্থের সংঘাত আছে। অনেক সময় পরিচালক নিজস্ব ব্যবসার স্বার্থে ঋণ অনুমোদনে চাপ দেন।bঅনেক অর্থনীতিবিদ দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন—যতদিন ব্যাংকগুলো রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণের বাইরে না আসে, ততদিন স্বচ্ছতা আসবে না।


আন্তর্জাতিক তুলনা: কেন বাংলাদেশ ঝুঁকিতে? বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের তথ্য অনুযায়ী—দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে ব্যাংকিং দুর্বলতায় পাকিস্তানের পরে দ্বিতীয় অবস্থানে বাংলাদেশ। ঋণ ফেরত না পাওয়ার হার (NPL) বাংলাদেশে সরকারি ব্যাংকে ২০-২৫%—যা এশিয়ার মধ্যে অন্যতম বেশি। অধিকাংশ জালিয়াতির ঘটনাই ঘটে “কোলুসন”—অর্থাৎ কর্মকর্তা ও গ্রাহকের যৌথ প্রতারণায়।


বাংলাদেশে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কয়েকটি বড় কেলেঙ্কারি—বেসিক ব্যাংক, হলমার্ক, ইসলামি ব্যাংকের ঋণ জালিয়াতি—ইঙ্গিত দিচ্ছে যে সমস্যাটি গাঠনিক।


জনগণের আস্থার সঙ্কট: ভুক্তভোগী গ্রাহকেরা কী বলছেন? চট্টগ্রামের কর্নেলহাট এলাকার ব্যবসায়ী কুদ্দুস সাহেব বলেন—২০ বছর ধরে ব্যাংকের গ্রাহক। কিন্তু এখন আর ব্যাংকে বিশ্বাস আসে না। প্রতিদিন খবর দেখি—আর ভয় পাই। পতেঙ্গার এক আমানতকারী বলেন—আমার পরিবারের সঞ্চয়ের সব টাকা ব্যাংকে আছে। কিন্তু এসব খবর দেখলে মনে হয় টাকাগুলো কি নিরাপদ?অভিযোগ উঠছে, ব্যাংকগুলো গ্রাহকের কাছে দায়বদ্ধতার চেয়ে অনেক বেশি ‘উর্ধ্বতন প্রভাব’ দেখে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন—এই মুহূর্তে ব্যাংকিং খাত শক্তিশালী করার লক্ষ্য নিয়ে কয়েকটি সংস্কার প্রক্রিয়া চলছে। তবে জালিয়াতি ও ঋণ পুনরুদ্ধার—দুটি বড় চ্যালেঞ্জ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক অতিরিক্ত পরিচালক বলেন—প্রযুক্তিভিত্তিক রিস্ক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম চালু হচ্ছে। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা কমে আসবে বলে আমরা আশা করি।



শেষকথা: তদন্তের বাইরেও ন্যায়বিচারের দাবি

চট্টগ্রামে ব্যাংক লুটের এই বিশাল চক্র দেশের অর্থনীতির জন্য কেবল আর্থিক ক্ষতি নয়—এটি আস্থা সংকট তৈরি করেছে। জনগণ জানতে চায়— এত বড় অঙ্ক লুট হয়ে গেল কীভাবে? ব্যাংকিং তদারকি কোথায় ব্যর্থ হলো? জড়িতরা কি সত্যিই আইনের আওতায় আসবে? লুট হওয়া টাকা কি ফেরত পাওয়া যাবে?


অভিযোগ, তদন্ত ও পরিসংখ্যান দেখিয়ে দিচ্ছে—ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা একদিনে তৈরি হয়নি।
তাই সমাধানের জন্যও দীর্ঘমেয়াদি ও কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা না হলে ভবিষ্যতে আরও বড় ঝুঁকির মুখোমুখি হতে পারে দেশ।


মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

কোম্পানীগঞ্জের বসুরহাটে ‘দ্যা প্রিন্স লাইভ কিচেন’-এর উদ্বোধন

1

যাত্রী হয়রানি ও অনিয়মের অভিযোগে বিআরটিসি ম্যানেজারকে সরানোর

2

শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফেরাতে প্রয়োজনে উপবৃত্তি বাড়ানো হবে: গ

3

নির্বাচিত সরকারই সংকট সমাধানের পথ . মির্জা ফখরুল

4

পঞ্চগড়ে দুদকের গণশুনানি আগামীকাল

5

সাতক্ষীরায় টাস্কফোর্স অভিযানে দুই ফার্মেসিকে ৫০ হাজার টাকা জ

6

রোগীর ভীতি ‘টেস্ট-বাণিজ্য

7

সরকারের ৪২ দিনে কোনো ক্রসফায়ার বা গুম হয়নি: আইনমন্ত্রী

8

ঘাটাইলে ৭ নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত

9

দুর্নীতির অভিযোগে ঢাকা উত্তর সিটির প্রধান প্রকৌশলী বরখাস্ত

10

খুলনায় স্বামীর নির্যাতনে গৃহবধূর মৃত্যু,

11

খুলনায় ডিপোর ভেতর ট্যাংকলরি থেকে অকটেন চুরি, পাঁচজন আটক ও জর

12

ওবায়দুল করিমের বিদেশযাত্রা,আদালতের নিষেধাজ্ঞা ফাঁকি দিয়ে কিভ

13

পিরোজপুরে ১০১ কোটি টাকা পাচারের প্রমাণ ৭ ব্যক্তি ও ২ প্রতিষ্

14

সংসদের সাউন্ড সিস্টেম কেনাকাটায় অনিয়ম: অনুসন্ধানে দুদক

15

প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন নীতিমালা পুনর্মূল্যায়নে ১৭ সদস্যের কমিট

16

‘স্বৈরাচারী মনোভাব এখন রাজনীতিতেও ঢুকে গেছে’ — আমীর খসরু

17

রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সেনাপ্রধানের সাক্ষাৎ

18

মোহাম্মদ আলি আসগার লবির পক্ষ থেকে শ্রমজীবীদের মাঝে গেঞ্জি ব

19

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার আর কোনো পরিকল্পনা ইরানের নেই বল

20