আয়ের টানাপোড়েনে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও রিকশা চালকরা
জাহিদ সুমন :
অর্থনৈতিক মন্দা, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি আর প্রতিদিনের খরচের চাপ—সব মিলিয়ে সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও রিকশা/ভ্যানচালকেরা।
রাজধানী থেকে শুরু করে জেলা শহরের অলিগলি, বাজার বা মহল্লায় দেখা যায় ছোট দোকানিরা ক্রেতাশূন্য বসে আছেন। মোবাইল ফোনের দোকানদার থেকে শুরু করে মুদি কিংবা চায়ের টঙ দোকান—সবার একই অভিযোগ, “বেচাকেনা নেই, কিন্তু খরচ আছে আগের চেয়েও বেশি।”
অন্যদিকে রিকশা ও ভ্যানচালকদের অবস্থা আরও করুণ। ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ১০-১২ ঘণ্টা রিকশা চালিয়েও হাতে থাকে সামান্য টাকা। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় পরিবহন ভাড়া বেড়েছে, ফলে মানুষ রিকশা নেওয়ার বদলে হাঁটতে বা বিকল্প পরিবহন বেছে নিচ্ছে। এক রিকশাচালক বলেন,
“দিনে ৪-৫ শ টাকা ভাড়া ওঠে, তার মধ্যে মালিককে দিতে হয় ২০০-২৫০ টাকা। বাকি দিয়ে সংসার চালানো যায় না।”
খরচের চাপ, আয় কম
ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের একাংশ জানালেন, দোকান চালানোর মাসিক ভাড়া, বিদ্যুৎ বিল, কর্মচারীর বেতন—সব মিলে তাদের খরচ বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ। কিন্তু বিক্রি আগের অর্ধেকও হচ্ছে না। ফলে অনেকেই ধার-দেনায় জর্জরিত হয়ে পড়ছেন।
রিকশা/ভ্যানচালকেরাও একই সমস্যায়। চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়ায় তাদের সংসার চালানো কঠিন হয়ে উঠেছে। “আগে দিনে যা আয় হতো, তাতে সংসার টানতাম। এখন খরচই আয়কে ছাড়িয়ে যাচ্ছে,” বলেন সাতক্ষীরার এক ভ্যানচালক।
সামাজিক প্রভাব
এই আর্থিক সংকটের কারণে অনেক পরিবারে পড়াশোনা বন্ধ করে শিশুরা কাজ করতে নামছে। আবার ঋণ শোধ করতে না পারায় অনেকে এনজিও কিংবা মহাজনের কাছে আরও বেশি ঋণগ্রস্ত হচ্ছেন।
অর্থনীতিবিদদের মতে, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও খেটে খাওয়া মানুষদের জন্য স্বল্পসুদে ঋণ, সহজ শর্তে পুনঃঅর্থায়ন ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সম্প্রসারণ না করলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।