জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ৪৩তম বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের তিন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দিয়েছে। চাকরিচ্যুত তিন কর্মকর্তা হলেন—কাজী আরিফুর রহমান, অনুপ কুমার বিশ্বাস ও নবমিতা সরকার। বুধবার (১৯ নভেম্বর) মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব এহছানুল হকের সই করা প্রজ্ঞাপনে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
তথ্য বলছে, তিনজনই নিজ নিজ কর্মস্থলে—ফরিদপুর, বগুড়া ও পিরোজপুর—নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং একই সঙ্গে বুনিয়াদি প্রশিক্ষণে অংশ নিচ্ছিলেন। প্রশিক্ষণ সমাপ্তির দিনেই আকস্মিকভাবে তাঁদের চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
সূত্র জানায়, কোনো ধরনের কারণ দর্শানোর নোটিশ ছাড়াই তাঁদের চাকরি অবসান করা হয়েছে। প্রশাসনের ভেতরে–বাইরে এ নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। কয়েকজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “এ ধরনের সিদ্ধান্ত সাধারণত খুব বিরল। বিষয়টি স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার বাইরে মনে হচ্ছে।”
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে—
বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস নিয়োগ বিধিমালা, ১৯৮১–এর বিধি ৬(২)(এ) অনুযায়ী যদি কোনো শিক্ষানবিশকে সংশ্লিষ্ট চাকরিতে বহাল থাকার অনুপযুক্ত বিবেচনা করা হয়, তাহলে পিএসসির সঙ্গে পরামর্শ ছাড়াই সরাসরি তার নিয়োগ বাতিল করার ক্ষমতা সরকারের রয়েছে।
এ ছাড়া সরকারি চাকরিকালীন সময়ে তিন কর্মকর্তার কাছে কোনো আর্থিক পাওনা থাকলে তা পাবলিক ডিমান্ড রিকভারি অ্যাক্ট, ১৯১৩–এর আওতায় আদায়যোগ্য হবে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ রয়েছে।
ঘটনাটি প্রশাসনে নতুন প্রশ্ন তুলছে—
প্রশ্ন উঠছে, কোন ধরনের অনিয়ম বা অযোগ্যতা চিহ্নিত হয়েছিল, যা দ্রুত এমন কঠোর সিদ্ধান্তের কারণ হলো? এখনো এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় থেকে কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
প্রশাসন–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ ভবিষ্যৎ শিক্ষানবিশ কর্মকর্তাদের মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি করতে পারে। তবে সিদ্ধান্তের পেছনের কারণ উন্মোচন না হলে অনিশ্চয়তা ও জল্পনা আরও বাড়বে বলেও তাঁরা মনে করছেন।