অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ : Nov 9, 2025 ইং
অনলাইন সংস্করণ

অবৈধ এমডির দখলে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক, নিশ্চুপ বাংলাদেশ ব্যাংক


 বিশেষ প্রতিবেদন

স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হাবিবুর রহমান ৯০ দিনের বাধ্যতামূলক ছুটির নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও প্রতিদিন অফিসে উপস্থিত থেকে এমডির কাগজপত্রে স্বাক্ষর করছেন। এই ঘটনা ব্যাংকিং খাতে অভূতপূর্ব এবং গ্রাহকদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
সরকারি ও ব্যাংকের সূত্র বলছে, ৩০ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের বোর্ড মিটিংয়ে ১১ জন পরিচালকের মধ্যে ৬ জনের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে হাবিবুর রহমানকে ৯০ দিনের ছুটিতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একইসাথে বোর্ড চেয়ারম্যান আব্দুল আজিজের স্থলে তার পুত্র আব্দুল আলিমকে নতুন চেয়ারম্যান করা হয়।

তবে বিস্ময়ের বিষয় হলো, হাবিবুর রহমান এখনও এমডি পদে বৈধভাবে স্বাক্ষর করছেন। ব্যাংকের ভেতরের একাধিক সূত্র জানায়, তিনি পুনঃনিয়োগের পর থেকে অস্বাভাবিক ক্ষমতার প্রভাব বিস্তার করেছেন। কয়েক মাসে শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে চাকরিচ্যুত করার পাশাপাশি ইউনিয়ন ব্যাংকের বিতর্কিত কর্মকর্তাদের পুনঃনিয়োগের অভিযোগ উঠেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শন বিভাগ–৭ (DBI-7) ২০২১-২২ সালে ইউনিয়ন ব্যাংক থেকে এস আলম গ্রুপের নামে পরিচালিত ৩০টি প্রতিষ্ঠানে ২৬০৭ কোটি টাকার ঋণ অনুমোদনের বিষয়টি খতিয়ে দেখেছে। রিপোর্টে উল্লেখ, হাবিবুর রহমান সরাসরি এসব ঋণ অনুমোদনে ভূমিকা রেখেছেন। ঋণগুলো এখন সম্পূর্ণ খেলাপি, অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব নেই।

এছাড়া মার্কেন্টাইল ব্যাংকের সময়কার প্রতারণা মামলায় তার বিরুদ্ধে চার্জশীটও রয়েছে। ২০০০ সালে প্যাট্রিক ফ্যাশনস, প্রতিষ্ঠানকে ঋণ প্রদানের সময় মিথ্যা তথ্য প্রদান এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। মামলাটি বর্তমানে মেট্রো স্পেশাল কোর্টে বিচারাধীন।

দুদকের চার্জশীট এবং DBI-7 রিপোর্ট থাকা সত্ত্বেও হাবিবুর রহমানকে আবার স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের এমডি পদে অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
অর্থনীতিবিদ বলেন,
চার্জশীটভুক্ত ও তদন্তাধীন ব্যক্তিকে এমডি হিসেবে পুনঃনিয়োগ দেওয়া ব্যাংকিং খাতে আস্থার সংকট তৈরি করে। এটি নীতিগতভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের নিশ্চুপতা এবং হাবিবুর রহমানের বেআইনি দখল স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংককে গভীর সংকটে ফেলেছে। প্রশ্ন উঠেছে, অবৈধ এমডির স্বাক্ষরিত আদেশের দায়-দায়িত্ব কবে ও কে নেবে।
স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, মানবসম্পদ প্রধান মনসুর আহমেদ এবং প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা মো. সালাহ উদ্দিন—যারা ইউনিয়ন ব্যাংকের বিতর্কিত ঋণ অনুমোদনে ভূমিকা রেখেছিলেন—ও হাবিবুর রহমানের পুনঃনিয়োগের পর দায়িত্বে রয়েছেন। দুদক ইতোমধ্যেই তাদের তলব করেছে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এই ধরনের ঘটনা ব্যাংকিং খাতের নৈতিকতা ও গ্রাহক আস্থার জন্য বিপজ্জনক।


মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

খুলনায় নতুন কেন্দ্রীয় কারাগারের নির্মাণ কাজ শেষের পথে

1

রাজবাড়ীতে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মধ্যে সার ও বীজ বিতরণ

2

ঢাকা সচিবালয়ের সচিবের হাত আছে আমার মাথার উপর, জাহাঙ্গীর আলম

3

৪০০ কোটি টাকার চমকপ্রদ প্রতারণা: লোভ দেখিয়ে সর্বনাশ

4

‘স্বৈরাচারী মনোভাব এখন রাজনীতিতেও ঢুকে গেছে’ — আমীর খসরু

5

লালমনিরহাটে বিএনপির সদস্য সংগ্রহে জনস্রোত

6

ঢাকা দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের শুভাঢ্যা খালের পুনরুদ্ধার প্রকল্প ন

7

নাটোরের ‘হ্যাকার সিন্ডিকেট’: পরিচয় বদলে ব্ল্যাকমেইল — দেশজুড়

8

রমজান উপলক্ষে আরটিভির হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতার সিলেকশন রাউন

9

সরকারি কোয়ার্টার দখল করে বসবাস করছেন আ.লীগ নেতা

10

সাবেক ভূমিমন্ত্রীর বিদেশি সম্পদ, ২৩ বস্তা নথি উদ্ধার

11

কোম্পানীগঞ্জে গ্যাস বিস্ফোরণে একই পরিবারের ৪ জন দগ্ধ

12

নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে চালু হচ্ছে এআই পদ্ধতির চিকিৎসা সেবা

13

জাহানারার উথ্থানে নারী দলের অস্থিরতা — বিসিবি বসছে তল্লাশি ম

14

বিপ্লব ও সংহতি দিবসে সাতক্ষীরায় নতুন উদ্দীপনায় বিএনপি কর্মীর

15

সৌদি বাংলা ট্রাভেলস’-এর নামে হজ প্রতারণা: শামসুদ্দিন তোহা

16

বাংলাদেশ লায়ন্স ফাউন্ডেশনের এজিএম-এর প্রস্তুতি সভা অনু

17

কুমিল্লায় সেনাবাহিনীর অভিযানে ৫২ পাসপোর্টসহ মানবপাচারকারী আ

18

ঐতিহাসিক সফরে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেছেন সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট শার

19

৩৩ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে না ফেরার দেশে শিক্ষার্থী তাসনিয়া

20